জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরে (পোমরা) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধির স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
আজ তারা জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধির স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। পরে তারা সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।
এ সময় তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম জেলা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ‘ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর ১০ একর সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত কারখানা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, হাসিনা আমলে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার সম্পদগুলো পরিত্যক্ত ফেলে রেখে কিংবা বিক্রি করে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্য করে দেওয়ার চক্রান্ত ছিল। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, দায়িত্বে আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ঘোষণা ছিল সরকারের সব স্থাপনা বা সম্পদ যেন সঠিক ব্যবহারের আওতায় আনা হয়।
আহমেদ আযম খান বলেন, যেহেতু আমাদের সরকার একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, তাই মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তিগুলোর সদ্ব্যবহার করা হবে। রাঙ্গুনিয়াস্থ ইস্টার্ন কেমিক্যালের ১০ একর জায়গা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রের এমন ক্ষতি আর হতে দেব না।
তিনি বলেন, ইস্টার্ন কেমিক্যালের পরিত্যক্ত জায়গায় বড় প্রজেক্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। ঢাকায় গিয়ে আলোচনা করে এলাকার জন্য যেটা সর্বোত্তম, সেটাই আমরা রাস্তবায়ন করব।
পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ইস্টার্ন কেমিক্যালের এই পরিত্যক্ত জায়গা ও কারখানা প্রজেক্টের মাধ্যমে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, আমরা তা যাচাই বাছাই করে দেখছি। এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর সম্ভাবনাও আমরা যাচাই করছি। দুদিনের চট্টগ্রাম সফরে ট্রাস্টের অন্যান্য সম্পত্তিও আমরা একইভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন করব।
পরিদর্শনকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।