রোমাঞ্চকর ম্যাচে ঘরের মাঠে ম্যান সিটিকে হারাল পিএসজি
সংগৃহীত ছবি
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অনিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ মাথায় নিয়ে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রথম হোম ম্যাচটি খেলতে নামে ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ম্যাচে তারা পিএসজির কাছে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে লুইস এনরিকের দল।
১৩তম মিনিটে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় পিএসজি। এর দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাজেও বড় ভূমিকা দুয়ের। তার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন উসমান দেম্বেলে। ব্যবধানে দ্বিগুনের প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। আশরাফ হাকিমির একটি শট গোলপোস্টে আঘাত করার পর ৩২ মিনিটে ভিতিনহা দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। এতে ম্যানচেস্টার সিটি হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এনজো মারেস্কা দলে তিনটি পরিবর্তন আনেন। বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে ৫৩তম মিনিটে আর্লিং হালান্ড হেড থেকে গোল করে ম্যান সিটিকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ম্যান সিটি আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে এবং দ্বিতীয় গোলটি করার একাধিক সুযোগও পায়। কিন্তু ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পরপরই জিয়ানলুইজি ডোনারুমার একটি বড় ভুলে তাদের সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়; গোলরক্ষক মাগনেস আকলিউশের শট আটকাতে দুবার ব্যর্থ হন, যার ফলে স্কোরলাইন ৪-১ হয়ে যায়।
এই ধাক্কা সত্ত্বেও স্বাগতিকরা আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যায়। হালান্ড আরও একটি গোল শোধ করেন এবং ব্যবধান আরও কমানোর অসংখ্য সুযোগও তৈরি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পিএসজি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে এবং ম্যাচের শেষদিকে একটি পেনাল্টি মিস করা সত্ত্বেও ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে ইতিহাদ স্টেডিয়াম ত্যাগ করে। গত রবিবার লিভারপুলের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে পিএসজি প্রমাণ করে দিয়েছে, কেন তারা টানা তৃতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্ট জয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম ফেভারিট।
মে মাসে দায়িত্ব ছাড়ার পর পেপ গার্দিওলা প্রথমবারের মতো ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরে আসেন। তিনি ক্লাবের চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক এবং সিইও ফেরান সোরিয়ানোর পেছনে বসে সংহতি প্রকাশ করেন। ম্যাচের আগে একটি দীর্ঘ ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটি পরোক্ষভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে। ভিডিওটিতে ২০০৮ সালে আবুধাবি-সমর্থিত মালিকানার আগে ও পরের ক্লাবের ঐতিহাসিক উদযাপনের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়, যে মালিকানা ক্লাবের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
স্টেডিয়ামের এক প্রান্তে সমর্থকরা একটি বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল, ‘আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিটি সমর্থক’। তবে গ্যালারিতে সমর্থকদের এই জোরালো মনোভাব মাঠের খেলায় প্রতিফলিত হয়নি। পিএসজির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে প্রথমার্ধেই ম্যানচেস্টার সিটি কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
লুইস এনরিকের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কার্যকর। তিনি খিভিচা কোভারাতসখেলিয়াকে বেঞ্চে রাখেন, যার ফলে দেজিরে দুয়েকে বাম প্রান্তে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে পিএসজি-কে তাদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতানোর কয়েক মাস পরেই কোচের সিদ্ধান্তের কারণে দল ছাড়তে হয়েছিল ইতালীয় গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মাকে; তাই এই ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ তার ছিল।
ইউরোপীয় ফুটবলের রূপ বদলে দেওয়া রাষ্ট্র-সমর্থিত দুটি প্রকল্পের লড়াইয়ে বর্তমানে কাতারের মালিকানাধীন পিএসজি-ই এগিয়ে রয়েছে; অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি এমন এক কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছে যা গত ১৫ বছরে তাদের জেতা অসংখ্য ট্রফির বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।