লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ চেয়ে বিবৃতি রিয়ালের
ফাইল ছবি
লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা পর্ষদের বক্তব্য ও কৌশলকে জার্মানির নাৎসি পার্টির প্রচার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তার পদত্যাগ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
শুক্রবার রিয়াল মাদ্রিদ টিভির ম্যাচ রেফারারিং পর্যালোচনার তীব্র সমালোচনা করে তেবাস লেখেন, ‘ওদের সুর একটাই: নিজেদের সুবিধা মতো দৃশ্য বেছে নেওয়া, অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করা, সন্দেহের জোগান দেওয়া এবং শত্রুদের দিকে আঙুল তোলা।’
লা লিগা সভাপতি আরও বলেন, ‘ওই পদ্ধতিটি নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী গোয়েবেলসের ব্যবহৃত প্রচার কৌশলের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই তুলনাটি কেবল তাদের প্রচার কৌশলের সঙ্গে, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা অবশ্যই রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তদের সঙ্গে নয়।’
তেবাসের বক্তব্যকে ‘গভীর অপমানজনক’ ও ‘নৈতিকভাবে ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। শুধু লা লিগার সভাপতির পদ নয়, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সহসভাপতির পদ থেকেও তেবাসকে সরে দাঁড়ানোর দাবি ক্লাবটির।
পরে তেবাস স্পষ্ট করেন, তিনি নাৎসি মতাদর্শের সঙ্গে নয়, বরং প্রচারের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তার এই ব্যাখ্যাও অবশ্য পরে গ্রহণ করেনি রিয়াল। তার এমন মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে পরে বিবৃতি দিয়েছে লস ব্ল্যাংকোসরা।
বিবৃতিতে তেবাসের পদত্যাগ চেয়ে রিয়াল লিখেছে, ‘আমাদের ক্লাব, এর পরিচালনা পর্ষদ এবং ক্লাবের টিভিকে হেয় করার জন্য নাৎসি শাসনের প্রচার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা টেনেছেন তেবাস, যা অত্যন্ত অমার্জনীয় এবং গুরুতর অপরাধ। তেবাসের এই ধরনের বারংবার আচরণ তার নিরপেক্ষতা, সম্মান ও পেশাদারিত্বের অভাবকে স্পষ্ট করে—যা তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের একদম পরিপন্থী। তাই লা লিগার সভাপতি ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির পদ থেকে তেবাসের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছে রিয়াল মাদ্রিদ।’
এর আগেও রেফারিং নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলায় রিয়ালের সমালোচনা করেছিলেন তেবাস। ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান সুপার লিগে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এবার গোয়েবলস-তুলনাকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হলো।
স্পেনের শীর্ষ দুই স্তরের ৪২টি পেশাদার ক্লাবের ভোটে নির্বাচিত ৬৪ বছর বয়সী তেবাস ২০১৩ সাল থেকে লা লিগার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এরপর ২০২৩ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় তিনি ২০২৭ সাল পর্যন্ত পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন।