জাতিসংঘের মহাসচিব পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নেতৃত্বে কে আসছেন?
ছবি সংগৃহীত।
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান। তবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের বিরোধিতার কারণে এখনো কোনো প্রার্থীর অবস্থান নিশ্চিত নয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক ভোটে গ্রিনস্প্যান অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে ছিলেন। নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স প্রত্যেকের কাছ থেকেই প্রার্থীরা অন্তত দুটি করে বিরোধিতার ভোট পেয়েছেন। মহাসচিব নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এই পাঁচ দেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখনো কাউকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
শুক্রবারের ভোটে গ্রিনস্প্যান পেয়েছেন ৯টি সমর্থনমূলক, ৫টি বিরোধিতামূলক এবং একটি ‘মতামত নেই’ ভোট। তার বিরুদ্ধে আসা পাঁচটি বিরোধিতার ভোটের মধ্যে দুটি স্থায়ী সদস্যদেশের কাছ থেকে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অন্যদিকে, গায়ানার জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট পেয়েছেন ৮টি সমর্থনমূলক, ৬টি বিরোধিতামূলক এবং একটি ‘মতামত নেই’ ভোট। তার বিরুদ্ধেও স্থায়ী সদস্যদের দুটি বিরোধিতার ভোট রয়েছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির ফলও প্রায় একই রকম। তবে তাকে সমর্থন করা স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা অন্য দুই প্রার্থীর তুলনায় একজন কম।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনুষ্ঠিত পাঁচটি ভোটের মধ্যে চারটিতেই ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। তবে আগস্টে অনুষ্ঠিত একটি ভোটে রড্রিগেস-বার্কেট শীর্ষে উঠে আসেন।
এ পদে আরও চারজন সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের ক্ষেত্রে সমর্থনের তুলনায় বিরোধিতার ভোট বেশি এসেছে।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার উত্তরসূরি বেছে নিতে নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত ছয় দফা গোপন ভোট আয়োজন করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী মহাসচিবের নাম সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করতে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত ৯টি সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কোনো দেশের বিরোধিতা বা ভেটো থাকা চলবে না।
কূটনীতিকদের ধারণা, নিরাপত্তা পরিষদে মতভেদ অব্যাহত থাকলে নতুন প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন। সাবেক ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন এ বিষয়ে বিবেচনা করছেন বলেও জানা গেছে। তবে বিভক্ত নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন অর্জন করা নতুন প্রার্থীদের জন্য সহজ হবে না।
জাতিসংঘের আট দশকের বেশি ইতিহাসে এখনো কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। ফলে এবারের নির্বাচনেও নেতৃত্বের বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্প্যান বলেন, তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ভেটো এলেও তিনি বিস্মিত হবেন না। তবে অতীতের নির্বাচনে বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীরা সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
গ্রিনস্প্যানের ভাষায়, ‘খেলা এখনো শেষ হয়নি; আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’
পরবর্তী মহাসচিবকে একাধিক যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংকট সামলানোর পাশাপাশি আর্থিক চাপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান কমে যাওয়া এবং দেশটির কয়েক ডজন জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গ্রিনস্প্যানের মতে, জাতিসংঘের কার্যক্রমে অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। নতুন নেতৃত্বকে কূটনৈতিক উদ্যোগে ব্যর্থতার ঝুঁকি নিতে হবে এবং কোনো উদ্যোগ সফল না হলে আবার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও মনে করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের পদ কমানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং বিভিন্ন সংস্থার একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা প্রয়োজন। তার মতে, শুধু ব্যয় সংকোচন করে সংস্থাটির আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটানো সম্ভব নয়; কার্যক্রমের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।