যুবদল কর্মী হত্যায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৬
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নগরীর নাসিরাবাদে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ পুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
অভিযানে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য পাঁচজনহলেন- ফখরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মো. ইফতেখার, আরিফুল ইসলাম জাবেদ ও নুর আহাম্মদ রনি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন সড়কে তারেক হোসেন বাপ্পিকে হত্যা করা হয়। রাতে খাবার খেয়ে বন্ধু ইমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন তারেক হোসেন বাপ্পি। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে। পরে দুজনকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে প্রধান আসামি আরিফ আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বাপ্পিকে গুলি করেন। অন্যরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় ইমন পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। গুলির শব্দ শুনে বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তাফসির আলম শাওন। হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে বাপ্পি ও শাওন গুরুতর আহত হন।
পুলিশ সুপার বলেন, স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে বাপ্পির মৃত্যু হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাপ্পির সাথে আরিফ ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। এর জেরেই বাপ্পিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার পর আসামিদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযানে বিভিন্নস্থান থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।