যুক্তরাষ্ট্রকে যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মেহরদাদ আখলাঘি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করলে ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের ‘বিপুল ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খবর এনডিটিভির।

মেহরদাদ আখলাঘি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর সাহস করার কথা নয়। তবে হামলা হলে এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো অঞ্চলকেই ভোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, সম্ভবত তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস করবে না। যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) হামলা চালায়, তাহলে তাদের নিজেদের এবং পুরো অঞ্চলকে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

এর আগে ইরানের আইনপ্রণেতারা নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আখলাঘির নিয়োগ অনুমোদন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর এ পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসলামি পরামর্শ পরিষদের (পার্লামেন্ট) সদস্যরা আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মেহরদাদ আখলাঘির নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন’। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার প্রায় আট মাস পর এ নিয়োগ অনুমোদন করা হলো।

ইরান সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে ২৩৭টি ভোট পেয়ে এ পদে নির্বাচিত হয়েছেন আখলাঘি। তিনি তার পূর্বসূরি আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নাসিরজাদেহ নিহত হন। ওই হামলায় দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছিলেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে আখলাঘি বলেন, ‘পার্লামেন্ট তার ওপর আস্থা রেখে ভোট দিলে দেশের এক সংবেদনশীল সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার ওপর বর্তাবে’।

তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষা করতে হলে সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে, বিভিন্ন ঘটনার পেছনের যুক্তি বুঝতে হবে, প্রভাব বিস্তারকারী প্রবণতাগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রসঙ্গত, সামরিক পদমর্যাদা না থাকলেও দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন আখলাঘি। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইরানিয়ান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ আখলাঘির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

শুধু সালমান নন, অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যক্তিরাও বারবার হামলার শিকার হয়েছেন।

কানাডার সারিতে কৌতুকাভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত তিনবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নেটফ্লিক্স শোয়ে সালমান খানকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির জুহুর বাড়িতেও গুলি চালানো হয়। সেই হামলার দায়ও শুভম লোনকারের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বীকার করা হয় এবং রোববারের অডিওতে উল্লেখিত সেই হারমান সান্ধুর নামই সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ছাড়া নিহত বাবা সিদ্দিকীর ছেলে জিসান সিদ্দিকীও বারবার মৃত্যুর হুমকি পেয়ে আসছেন।

একই কারণ দেখিয়ে পাঞ্জাবি গায়ক এপি ঢিল্লো ও গুরু রানধাওয়াকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।