ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও ব্যালট চুরির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।
ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট চুরি ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ইয়াশার। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে তারা অনিয়মের খবর পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়াশার পার্টি জানায়, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়ে তারা শিগগিরই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেবে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণের সময় কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তা জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
দলটির অভিযোগ, যেখানে ইয়াশারের সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি, সেসব ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তারা। এক্সে দেওয়া পোস্টে ইয়াশার পার্টি বলেছে, ‘আমরা যে পরিবর্তন চাই, তা বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ কাউকে দেব না।’
ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নাগরিকেরা, চোখ-কান খোলা রাখুন। প্রতারণা, জালিয়াতি এবং আপনাদের ভোটের ক্ষতি করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।’
ইয়াশার পার্টি ও লিবারম্যানের দল উভয়ই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোটের বিরোধী শিবিরে রয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ইসরায়েলের সংসদ নেসেটের ১২০টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ ইসরায়েলি ভোট দেওয়ার যোগ্য। তাঁদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকও রয়েছেন।
বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না। দেশটিতে সাধারণভাবে বিদেশে অবস্থান করে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাই ভোটারদের নির্বাচনের দিন সশরীরে ইসরায়েলে উপস্থিত থাকতে হয়। তবে কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা এর ব্যতিক্রম হিসেবে ইসরায়েলি মিশনগুলোতে ভোট দিয়েছেন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কমিটি জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের পর কোনো সাধারণ নির্বাচনে এই সময় পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার কথা। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
ভোটগ্রহণের মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বক্তব্য এবং তদন্তের ফল পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।