বুটেক্সে টেক্সটাইল উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের ২৫টির বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে আটটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ।
এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কানিজ ফারহানা, ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম নয়ন এবং বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার এস কে মোহাম্মদ রাফি।
প্রতিযোগিতার আটটি বিভাগ ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, ট্রেজার হান্ট, কুইজার্ড, পোস্টার উপস্থাপনা, কেস প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ, প্রবন্ধ রচনা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী।
কলেজ পর্যায়ের গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম হন সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাকিন শাহরিয়ার বিন কবির। দ্বিতীয় হন নটর ডেম কলেজের জুনায়েদ লাবীব আল ওয়াসি এবং তৃতীয় হন হলি ক্রস কলেজের শাকিবা আক্তার।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ট্রেজার হান্টে প্রথম হয় বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম ইনকগনিটা’। দ্বিতীয় হয় ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম টুইলাইটস’ এবং তৃতীয় হয় ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম হ্যালোজেন’।
কুইজার্ডে প্রথম হয় বুটেক্সের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম অ্যাটাক অন কুইজার্ড’। দ্বিতীয় হয় ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম ডাবল ট্রাবল’ এবং তৃতীয় হয় এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম দ্য রেড আর্মি’।
পোস্টার উপস্থাপনায় প্রথম হয় বুটেক্সের ‘টিম থ্রাইভ’। দ্বিতীয় হয় সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম গ্যাস্ট্রিক’ এবং তৃতীয় হয় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম নেক্সাস ইনভেন্টরস’।
কেস প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ‘টিম ক্যাটালিস্ট’। দ্বিতীয় হয় বুটেক্সের ‘টিম দ্য অরফিয়াস’ এবং তৃতীয় হয় আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ‘টিম আন-থ্রেড-ইশনাল’।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ বিভাগে প্রথম হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ‘টিম দ্য ব্রেইনসেল’। দ্বিতীয় হয় বুটেক্সের ‘টিম জোনেক্স’ এবং তৃতীয় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম সোডা-পপ দল’।
প্রবন্ধ রচনায় প্রথম হন বুটেক্সের আনজুম আবদুল্লাহ তাহহা। দ্বিতীয় হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) রোয়াইদা বিনতে আলী এবং তৃতীয় হন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) মো. আরিফুল হক নাঈম।
প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে প্রথম হয় বুটেক্সের ‘টিম হ্যাব’। দ্বিতীয় হয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ‘টিম ইকো পাল্প বিডি’। যৌথভাবে তৃতীয় হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম গ্রিন জেনেসিস’ ও বুটেক্সের ‘টিম কোয়ান্টুম্যানিয়া’।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের দ্বিতীয় বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘কিংকল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, “টেক্সটাইল শিল্পে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই। বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ধারাবাহিক কার্যক্রম টেক্সটাইল খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে আরো বেশি গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা করি বুটেক্স সাইন্স ক্লাবের কাছে।”
বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি রুবায়েত রশীদ রনি বলেন, “টেক্সভার্স ২.০ এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন হওয়ায় এবং আমাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আমাদের অতিথি ও ক্লাব মডারেটর স্যারের দিকনির্দেশনা আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের পুরো আয়োজক দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কে এম শফিক রাইয়্যান বলেন, “টেক্সভার্স ২.০-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব প্রকাশনা ‘কিংকল ২.০’ ম্যাগাজিনও আজকে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই এই ম্যাগাজিন শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি, নতুন ধারণা ও সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠুক।”
বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “টেক্সটাইল সায়েন্সের পাশাপাশি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিকস, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাসটেইনেবিলিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি ও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি নয়। প্রচলিত সুতা ও কাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফাইবার এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী ও রানারআপদের হাতে প্রাইজমানি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।