তীব্র গরমে গর্ভপাতের ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

তীব্র গরমে গর্ভপাতের ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

ফাইল ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পুরো বিশ্বে তীব্র তাপপ্রবাহ ও গরম বেড়েছে। আর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে গর্ভবতী মা ও অনাগত সন্তানের ওপর। এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, তীব্র গরম বা অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতের এবং সময়ের আগে সন্তান প্রসবের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মা ও অনাগত সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে জেনে নিন এই স্বাস্থ্য টিপসগুলো-

কেন এমন হচ্ছে?

 চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা গর্ভবতী মায়ের শরীরে চরম চাপ সৃষ্টি করে। ডার কারণে গর্ভবতী মায়ের জরায়ুর রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে গর্ভপাত বা সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি বাড়ে। তাই তীব্র গরমে অনাগত সন্তান ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে গর্ভবতী মায়েদের এই বিষয়গুলোতে সতর্ক হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: নতুন মায়ের খাদ্য তালিকা, কী খাওয়া মানা 

পর্যাপ্ত পানি পান ও তরল খাবার গ্রহণ: গরমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ডাবের পানি, তাজা ফলের রস, লেবুর শরবত এবং স্যালাইনও খেতে পারেন। তবে চা, কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস পান করা যাবে না।

ঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গর্ভবতী মায়েদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া একদমই উচিত নয়। কেননা, এসময় রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফ্যান বা এসি ব্যবহার করলে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা (বিশেষ করে ২৪-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখা ভালো। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস এবং ওআরএস সঙ্গে নিতে হতে হবে।

পোশাক ও খাদ্যাভ্যাস: গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান করুন। সহজে হজম হয় এমন হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খান। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড এবং বাসি খাবার খাওয়া গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

তীব্র গরমে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা ঘাম একদম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব কিংবা জরায়ুতে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা রক্তক্ষরণ দেখা দিলে দ্রত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।