কিছু আমল বা ইবাদত মানুষের সারা দিনের গতিপথ নির্ধারণ করে। তেমনই এক মহিমান্বিত ইবাদত ফজরের নামাজ, যা শুধু একটি ফরজ সালাত নয়; বরং বরকত, নিরাপত্তা, নুর ও সফলতার দরজা।
ফজর
ফজর ও জোহর নামাজে কেউ যদি সুন্নতে মুয়াক্কাদা না পড়ে ফরজ পড়ে ফেলে, তাহলে সেই ব্যক্তি নামাজের সময় বাকি থাকাবস্থায় সুন্নত আদায় করতে পারবে কি না?
ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের জন্য সময়ের পবিত্রতা ও সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ফজর নামাজের ক্ষেত্রে সময়ের বাধ্যবাধকতা খুবই সংবেদনশীল। সূর্যোদয়ের ঠিক কত সময় আগে ফজর সম্পন্ন করা নিরাপদ এবং সূর্যোদয় শুরু হয়ে গেলে নামাজের হুকুম কী- এসব বিষয়ে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহ ও ফুকাহায়ে কেরামদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
মানুষ হিসেবে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই। নফস ও শয়তানের প্ররোচনায় প্রতিনিয়ত আমাদের দ্বারা গুনাহ হয়ে যায়। কিন্তু একজন মুমিন সবসময় চায় গুনাহমুক্ত পবিত্র জীবন গড়তে এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।
ফজর শুধু দিনের প্রথম নামাজ নয়; এটি অন্ধকারের বুক চিরে আলোর আগমনের ঘোষণা।
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের ওপর ফরজ। মানুষ যেখানে থাকুক না কেন— সময়মতো নামাজ আদায় করতেই হয়। এই ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)
ফজরের নামাজ ইসলামের পাঁচটি ফরজ নামাজের একটি। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে মুসলমানগণ এই নামাজ আদায় করেন। এই নামাজে সচরাচর এশার বিতিরের মতো কুনুত পড়া হয় না।
দেশজুড়ে চলছে তীব্র শীতের দাপট। কিন্তু কয়দিন পর থেকে শীতের দাপট নাকি আরো বাড়লে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার প্রকৃত বান্দাদের জন্য শীতকাল হচ্ছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ইসলামে এ সময়টিকে ইবাদতের জন্য উপযুক্ত মওসুম বলা হয়েছে।
ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ সুন্নাতে মোয়াক্কাদা। অন্য সকল সুন্নাতের চেয়ে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
ফরজ নামাজের আগে ও পরে সুন্নত নামাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব ও ফজিলতপূর্ণ সুন্নত হলো ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিস শরিফে এই সুন্নতের প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।