আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়া এবং রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেড়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতি
দেশে কয়েক মাস ধরে কমছে রফতানি আয়। বিপরীতে পাল্লা দিয়ে বাড়াছে আমদানি ব্যয়। এতে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির চাপ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে
রমজানকে সামনে রেখে আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটা বেড়ে ৭.৫ বিলিয়ন বা ৭৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট–বিওপি) উন্নতি দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ধাপে ধাপে কমানোর আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন,
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৮১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ টাকা।
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে চলতি হিসাবের নেতিবাচক অবস্থার পরিমাণ কমেছে। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে— এই ১১ মাসে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত কমার কোনো সুযোগ নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। আমরা ওটার ওপরেই কাজ করছি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল তিন দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ২৯০ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে এ বছর।