ভিসা ফি বাড়ালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভ্রমণ, ব্যবসা, অস্থায়ী কর্মীসহ সুনির্দিষ্ট কিছু অনভিবাসী ভিসা (এনআইভি) আবেদনের ফি বাড়িয়েছে দেশটি। নতুন ভিসা ফি শনিবার (১৭ জুন) থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ভিসা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণে আজকে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ তারা বলছে তারা নাকি ভয় পাই না।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমেরিকা আমাদের ওপর ভিসা নীতি দেয়, স্যাংশন দেয়। এটা আমাদের জন্য আনন্দের কথা নয়। লজ্জার কথা।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি দূরভিসন্ধিমূলক।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কে আমাদের ভিসা দেবে না, কে আমাদের স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেবে; ও নিয়ে মাথাব্যথা করে কোনো লাভ নাই। ২০ ঘণ্টা প্লেনে জার্নি করে আটলান্টিক পার হয়ে ওই আমেরিকা না গেলে কিচ্ছু আসে-যায় না।’
বাংলাদেশের জন্য নতুন মার্কিন ভিসা নীতি বৈদেশিক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে একটি চমৎকার সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে মার্কিন অভিবাসননীতির পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অস্পষ্ট হওয়ার জন্য এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অসাংবিধানিক ঘোষিত হতে পারে। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনগত নীতি লঙ্ঘনের দোষে দুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন ভিসা নীতির সাথে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো: আলমগীর।
আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে একটি হুমকি আসছে এটি বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশের সরকার সম্ভবত আঁচ করছিল। কারণ, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে খোলাখুলি আমেরিকার তীব্র সমালোচনা শোনা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে হতাশ ও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। আমরা যেটি চাই- দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে নির্বাচন, সেটিই যুক্তরাষ্ট্র আগামী নির্বাচনে দেখতে চায়।