ভাংগুড়ায় বখাটের হামলায় নিহত ১, আহত ১৫
বখাটেদের হামলায় আহতদের কয়েক জন ও নিহত তোরপ আলী
বুধবার পাবনার ভাংগুড়া উপজেলার ডাসবেলাই গ্রামে এক নারীকে উত্যক্তের ঘটনায় স্থানীয় নমরিচ ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বিল্লাল হাজির নেতৃত্বে ২০/২৫ জন লোক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে গফুরের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে বাড়ির অন্তত: ১৫ জন আহত হয়। বখাটেদের হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত এবং দু’জন মহিলাসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন ।
নিহত ব্যক্তি হলেন-উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের ডাসবেলাই গ্রামের তোরাপ আলী (৭৫)।
পুলিশ এ ঘটনায় বুধবার রাতেই বখাটে মফিদুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও গ্রামবাসীরা জানায়, ডাসবেলাই গ্রামের অবদুল গফুর আলীর পরিবারের এক নারীকে একই গ্রামের মৃত আছান আলীর ছেলে মফিদুল ইসলাম (৩৮) কয়েকদিন আগে কুপ্রস্তাব দেয়।
এতে গফুর আলী বাদি হয়ে গ্রামের প্রধান আবুজল প্রামানিক ও বিল্লাল হাজির নিকট পাঁচ হাজার টাকা জমা দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেন। কিন্তু তারা (প্রধানগণ) অভিযুক্ত মফিদুল ইসলামের নিকট থেকে মোটা টাকা নিয়ে উল্টো গফুর আলীর বাড়িতে গিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে তারা হুককি ধামকি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী বখাটে মফিদুল ইসলাম ধারালো ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে গফুর আলীর বাড়ির পিছনে অপেক্ষা করছিল। এক পর্যায়ে বিল্লাল হাজি ও আবুজলের প্রত্যক্ষ মদদে ২০/২৫জন গফুরের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ১৫ জন জখম হয়। তাদের মধ্যে তোরাপ আলী ও ফজলুল হককে কুপিয়ে মারাত্বকভাবে আহত করা হয়েছে এবং বাকিদেরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হা-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মুমূর্ষ অবস্থায় তোরাপ আলী ও ফজলুল হককে রাজশাহী মেডিকেল এন্ড হাসপাতাল এবং অন্য ১৩ জনকে ভাংগুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৮টার দিকে তোরাপ আলীর মৃত্যু হয়।
ভাংগুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বেডে চিকিৎসাধীন গফুর আলী (৫৫) বলেন, খানমরিচ ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বিল্লাল হাজীর নেতৃত্বে একদল লোক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বাড়ির উপর এসে অতর্কিত হামলা করে পরিবারের ১৫জনকে রক্তাক্ত জখম করেছে।
এর পর বখাটে মফিদুলসহ চার হামলাকারী নিজেদের শরীরে নিজেরাই আঁচড়ে-হেঁচরে ভাংগুড়া উজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।এদিকে পুলিশ বখাটেদেরকে আটক না করে দাদের পক্ষ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে এবং মামলা দিতে কালক্ষেপণ করে। সন্ধ্যায় তোরাপ আলী মারা যাবার পর পুলিশের টনক নড়ে। পরে রাতে হাসপাতাল থেকে আসামীদের গ্রেফতার করে। ভাংগুড়া থানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেন, দুই নারীসহ আহত আরো ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এব্যাপারে বুধবার রাতে ১৮ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার পরপরই রাত সাড়ে ৮টায় বখাটে মফিদুল ইসলাম (৩৫), শহিদুল ইসলাম (৩০), আনিছুর রহমান (৩৫) ও রুহুল আমিন (৫০) এবং আবজাল হোসেনকেক গ্রেফতার করা হয়েছে।এলাকায় উত্তেজনা করছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।