শাটল বাসে উপেক্ষিত ঢাবির দুই হলের নারী শিক্ষার্থীরা!
ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রতি চালু হয়েছে ক্যাম্পাস শাটল বাস। ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থানে শাটলের রুট রাখা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ও কুয়েত মৈত্রী হলের দিকে নেই কোনো রুট৷ ফলে শাটলের ফায়দা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই হলের নারী শিক্ষার্থীরা। অথচ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল এই দুই হলের নারী শিক্ষার্থীদের।
গত ২১ নভেম্বর শাটল বাস সার্ভিসের জন্য নির্ধারিত বাসসমূহের রুট নির্ধারণ ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। এতে ক্যাম্পাসের সকল অংশ আওতাভুক্ত হলেও একেবারে উপেক্ষিত রয়েছে আজিমপুর কবরস্থান সংলগ্ন কুয়েত মৈত্রী হল, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা হল, শাহনেওয়াজ হোস্টেল, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শত শত শিক্ষার্থী।
ক্যাম্পাস থেকে ক্লাস শেষে কিংবা ক্যাম্পাসে আসতে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে এই শিক্ষার্থীদের। শাটলের রুট এসব স্থানে থাকলে কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কুয়েত মৈত্রী এবং বঙ্গমাতা হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস থাকলেও এর অবস্থা বেহাল।
রিফাত আরা নামে ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং বঙ্গমাতা হলেন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হলের অবস্থা খুবই বাজে। হলের জন্য যে বাসগুলো আছে বেশিরভাগ সময়ই টাইমমতো আসে না। আর সবার জায়গাও হয় না। প্রচণ্ড গাদাগাদি করে দাঁড়াতে হয়। বার বার বলেও এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এরমধ্যে আবার শাটল বাস আমাদের হলের দিকে যাবে না। আমাদের হল দুটো মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশ না, তাই এত অবহেলা!
কুয়েত মৈত্রী হলে শিক্ষার্থী জারিন নাফিসা স্মিতা বলেন, বঙ্গমাতা, কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসাতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। একটা বাসে ৫০-এর অধিক মেয়ের ঝুলে ঝুলে কষ্ট করে যেতে হয়। তার ওপর নীলক্ষেতের জ্যাম তো আছেই। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। ফলে বাসের ভেতর অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রচুর সাফকেশন হয়। এই দুটি হলের রোডে শাটল বাস রাখা হলে মেয়েদের ভোগান্তি অনেকটায় কমে আসত। এই দুই হলের মেয়েদের প্রতি প্রশাসনের দায়সারা মনোভাবের নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, মূলত এটি তিন মাসের একটি পাইলট প্রোগ্রাম। এখানে কুয়েত মৈত্রী এবং বঙ্গমাতা হলের ওইদিকে রুট রাখা হয়নি। কারণ নীলক্ষেতে প্রচণ্ড জ্যাম থাকে। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই আপাতত স্টার্টিংটা নীলক্ষেত থেকেই হবে, আর নিউ মার্কেটের দিকে যাবে না।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, দেখুন এটা তো এখনো পরীক্ষামূলক। আমরা পরীক্ষামূলক এই অবস্থায় যদি দেখি কোনো রোডে বাসের প্রয়োজন নেই, সে ক্ষেত্রে আমরা সেগুলোকে বাদ দিয়ে দেব। আবার যদি দেখা যায় কোনো রোডে বাস প্রয়োজন আছে, তাহলে আমরা সেটা সংযুক্ত করে নেব। সেটা শিক্ষার্থীদের মতামতের ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ভিত্তিতে হবে। যে রুটটা দেওয়া হয়েছে সেটাই চূড়ান্ত নয়।