ইসরায়েলি হামলায় গাজায় হাজারেরও বেশি চিকিৎসক-নার্স নিহত

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় হাজারেরও বেশি চিকিৎসক-নার্স নিহত

সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু-নারীরাও। বাদ যাননি চিকিৎসক-নার্সও। সাড়ে ১৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ওয়াফা নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে গাজার হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্স নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩১০ জনেরও বেশি চিকিৎসা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কারাগারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে গাজার হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং গাজায় চিকিৎসা সরবরাহ, স্বাস্থ্য প্রতিনিধি এবং শত শত সার্জনদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ২১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৫৬৭ জন। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।