বেনাপোলে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি : সংগৃহীত
পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় বেনাপোলের সাথে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে সারা দেশের পরিবহন যোগাযোগ। পরিবহন কর্তৃপক্ষের জবাব, বেনাপোল চেকপোস্ট বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সকল এসি বাস চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। সকল নন এসি বাস বেনাপোল পৌর টার্মিনাল থেকে ছাড়তে তাদের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে বাস মালিকরা। গতকাল এ দাবি নিয়ে যশোরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে কোন আশ্বাস না পেয়ে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে পরিবহন মালিকরা।
এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ভারত ফেরত ও ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। কলকাতা থেকে পেট্রাপোল বর্ডার পর্যন্ত বাস বন্ধ থাকায় কলকাতায় আটকা পড়েছেন হাজার হাজার পাসপোর্ট যাত্রী। শিয়ালদহ থেকে অনেক যাত্রী ট্রেনে বাংলাদেশে ফিরলেও বেনাপোলে বাস বন্ধ থাকায় যশোর থেকে বাসে করে ঘরে ফিরতে হচ্ছে যাত্রীদের।
পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পৌর বাস টার্মিনাল। ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের মাধ্যমে যাত্রীদের চেকপোস্ট অবধি যাতায়াত করতে হয়। বড় বড় ল্যাগেজ নিয়ে যাতায়াত বেশ কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া টার্মিনালে রয়েছে নিরাপত্তার অভাব। ভারত থেকে ফেরার পর অধিকাংশ যাত্রী থাকে ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত। টার্মিনাল এলাকায় কোন হোটেল, রেষ্টুরেন্ট বা দোকানপাট না থাকায় যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
যাত্রীদের দুর্দশার কথা ভেবে প্রশাসনকে অবিলম্বে চেকপোস্ট বন্দর টার্মিনাল পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়া উচিত।
পরিবহন মালিকদের পক্ষে বাবলুর রহমান বাবু জানান, পরিবহনের কারণে বন্দর এলাকায় যানজট হচ্ছে এটা প্রশাসনের খোড়া অজুহাত। কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল চালু হবার পর যানজট ৮০ শতাংশ কমে গেছে। বাকি যেটুকু আছে সেটা অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থার কারনে আমদানি পণ্যবাহী ট্রাকের কারনে হচ্ছে। কোন পরিবহনের কারনে যানজট হয় না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. নাফিজ হাসান বলেন, যানজটের কারণে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে সকল পরিবহন পৌর বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষের অন্যায় দাবি মেনে নেয়া সম্ভব নয়।