বালু ব্যবসার বিরোধে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬
প্রতীকী ছবি
মুন্সীগঞ্জ নয়াগাঁও এলাকায় বিএনপির দুই গ্রপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছে। শুক্রবার বেলা এগারোটার সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ড্রেজার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মনির গ্রুপ ও মানিক গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন রাকিবুল (১৭), হুমায়ুন কবির (৩২), খোরশেদ (৩৪), মেহেদী (১৮), শুভ (৩০) এবং মো. হোসেনকে (৩৫)। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখে গেছে, নতুনগাঁও মধ্যপাড়া এলাকায় জান শরিফ মিয়ার তিনতলা বিল্ডিংয়ের ১৬ টি জানলার কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তার বাসার সিসিটিভির ২টি ক্যামেরা নিয়ে গেছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, মানিক মাদবরের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লোক দেশীয় লাঠিসোটা নিয়ে এসে আমার বিল্ডিংয়ের ১৬টি গ্লাস ভেঙে দিয়েছে। আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে তারা। তাদের অপরাধ তারা মনিরের সাথে চলে।
আহত মো. রাকিবুল জানান, নয়াগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামের বড় মসজিদের কাছে তার বাবা বিএনপি কর্মী মনির হোসেনের বালু ব্যবসার গদি রয়েছে। সেখানে নদীর তীরে একটি আনলোড ড্রেজার বসানোর পরিকল্পনা করেন তার বাবা। এনিয়ে তার বাবার সঙ্গে নয়াগাঁও পশ্চিম পাড়া গ্রামের মানিক মাদবরের বিরোধ দেখা দেয়। শুক্রবার সাড়ে ১২ টার দিকে ওই গদিতে সেও তার চাচাসহ কয়েকজন বসেছিলো। এসময় মানিকের নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালিয়ে তাদের এলোপাথারি কুপিয়ে আহত করে।
অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন যুবদল নেতা মানিক মাদবর। তিনি বলেন, নয়াগাঁও বড় মসজিদ সংলগ্ন সড়কের পাশে মনির হোসেন ইট বালুর গদি বসিয়ে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করছে। আর হামলা এলাকাবাসী করছে শুনেছি। এখানে আমার নাম ব্যবহার করছে তারা।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার (ভারপ্রাপ্ত) ওসি সজিব দে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মো: মহিউদ্দিন জানান, আহতরা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে আসলে উভয় পক্ষকে নিয়ে মিমাংসা করে দেয়া হবে।