স্বামী এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে বিলকিছের মানবেতর জীবন

স্বামী এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে বিলকিছের মানবেতর জীবন

ফাইল ছবি

ক্যান্সারে পা হারানো স্বামী ও শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী এক ছেলে ও এক মেয়েসহ পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিলকিছ বেগম নামে এক গৃহবধূ। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরগঙ্গাপুর এলাকার তাজল ইসলামের স্ত্রী।

জানা গেছে, তাজল ইসলাম এবং বিলকিছ দম্পতির সংসারে মোট ৫ সন্তান। তাদের মধ্যে সুমাইয়া ও মো. রিয়াজ জন্মগতভাবেই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে বিয়ে করে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিনি গ্রামে থাকা প্রতিবন্ধী দুই ভাই-বোন এবং বাবা-মায়ের কোনো খোঁজ নেন না। এছাড়া এক মেয়ে বিয়ে দেওয়ায় সে স্বামীর সঙ্গে শ্বশুর বাড়িতেই থাকেন। আরেক মেয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার উপার্জনেই কোনো রকমে খেয়ে-পরে গ্রামে প্রতিবন্ধী দুই ভাই-বোনকে নিয়ে দিন পার করছেন অসহায় বাবা-মা।

গৃহবধূ বিলকিস বেগম বলেন, আমার স্বামী আগে মাছ ধরে সংসার চালাতেন। তবে গত ৬ বছর আগে তার ডান পায়ে টিউমার দেখা দেয়। এরপর তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। তখন চিকিৎসক পরামর্শ দেন পায়ের অপারেশ করার। স্বামীকে সুস্থ্য করতে তখন ধারদেনা করে তার পায়ের অপারেশন করানোর ব্যবস্থা করি। তবে অপারেশনের কিছুদিন পর পায়ে অপারেশন করা ওই স্থানে পচন দেখা দেয়। তখন আবার চিকিৎসকের কাছে গেলে জানানো হয় আমার স্বামীর পায়ের পচন থেকে ক্যান্সার হয়েছে।

এর ফলে গত ৩ মাস আগে তার ডান পা কেটে ফেলে দিতে হয়েছে। যার জন্য জমানো সব অর্থ ব্যয় করে আমরা এখন নিঃস্বপ্রায়। অপারেশনে পা হারানোর কারণে আমার স্বামী তাজল ইসলাম এখন কোনো কাজ করতে পারেন না। তবে ঢাকায় গার্মেন্টেসে যে মেয়ে চাকরি করে, তার দেওয়া কিছু টাকায় কোনো রকমে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি। তাই সরকারের কাছে দাবি; চাল বরাদ্দসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেন আমাদের দেওয়া হয়।

গার্মেন্টেসে চাকরি করা বিলকিছের মেয়ে মিতু আক্তার জানান, সংসারে অভাব-অনটন দেখে পড়াশুনা বাদ দিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নিয়েছি। সেই বেতনের টাকা থেকে কিছুটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা গ্রামে বাবা-মাকে দিই। ওই টাকা দিয়েই তারা ছোট দুই প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে বেঁচে আছেন। আমার বাবা ও দুই ভাই-বোন প্রতিবন্ধী হওয়ায় বেশ কয়েকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাই আমি সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি। আমার দাবি; সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে যেন আমাদের এই অস্বচ্ছল পরিবারটির পাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানো হয়।

উপজেলার সাচরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম সিকদার বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সামনে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা আসলে ওই পরিবারটিকে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান-উজ্জামান জানান, এরমধ্যে আমি ওই প্রতিবন্ধী পরিবারটির সংবাদ পেয়েছি। তারা খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। যার জন্য প্রাথমিকভাবে খুব শিগগিরই ওই পরিবারটিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে তারা যেন সরকারি সর্বোচ্চ সহযোগিতা পান তার জন্যও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।