এক যুগ পর ব্যবসায়ীদের হাতে ফিরলো যশোর চেম্বারের নেতৃত্ব

এক যুগ পর ব্যবসায়ীদের হাতে ফিরলো যশোর চেম্বারের নেতৃত্ব

ছবি: প্রতিনিধি

টিআই তারেক: এক যুগ পর ব্যবসায়ীদের পাতে ফিরলো যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। ৩০ নভেম্বর শনিবার রাত ৯টার দিকে যশোর ক্লাব মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের পরিচিতি ও দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলো।

যশোর চেম্বার ও কমার্স নির্বাচন ঠেকাতে মামলার রীতি চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এই সংগঠনটির কতৃত্ব নিজেদের দলীয় লোকদের হাতে আবদ্ধ ছিল। কিন্তু অবশেষে সেই রীতি ভেঙে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দায়িত্বভার ব্যবসায়ীদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচিত নেতারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও চেম্বারের প্রশাসক এসএম শাহীন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ।

জেলা প্রশাসক বলেন, বাজারে ডিমের কোনো সংকট নাই। যা আছে তা কৃত্রিম। বিজনেস পলিসি হলো আপনি একজন প্রডিউসার। উৎপাদন করবেন, আপনার কাছ থেকে যারা ডিস্ট্রিবিউটর তারা নিয়ে যাবে। ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে পাইকারী বিক্রেতারা নিয়ে যাবে। পাইকারী বিক্রেতাদের কাছ থেকে যারা খুচরা বিক্রেতারা নিয়ে যাবে, সেখান থেকে গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে ডিম পৌছে যাবে। কিন্তু আপনি ডান হাতে উৎপাদন করে বাম হাতে বলবেন যে, এটা আমার মার্কেটিং কোম্পানি এটা আমি খুচরা বিক্রি করবো, এটা হতে পারে না। এটা বিজনেস পলিসি না। ডিম উৎপাদনের জন্য আপনাকে গ্রোয়ার্স লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এই বাম হাত আর ডান হাতের কারসাজি করে বিজনেস করার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে যে পরিমান ধান উৎপাদন হয় তা আমাদের চাহিদার চেয়েও বেশি। তাহলে চালের দাম বাড়ে কেন? দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা গুটি কয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়ে সেগুলো বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ক্ষতিটা যখন দেশের হয়েছে দেশ যখন মুক্ত হয়েছে এই ক্ষতি পূরণের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। বাঙালী জাতি ঘুরে দাড়াতে জানে। তিনি বলেন, ভাল’র সাথে ভাল’র প্রতিযোগিতা করতে হবে। খারাপের সাথে কোন খারাপ প্রতিযোগিতা নয়। এসময় ব্যবসায়ীদের সৎভাবে ব্যবসা করার আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

এসময় আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল ও সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।

চেম্বারের নবনির্বাচিত সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন যশোর চেম্বার অব কমার্স একটি চক্র জিম্মি করে রেখেছিল। নির্বাচন দিতে তারা ভয় পেতো। ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হতো। এমনকি ব্যবসায়ীদের জেলে নেয়ার মতো ইতিহাসও রচিত করে ওই চক্র। যা মোটেও সমীচিন না।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান বক্তব্য প্রদান করেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন চিন্ময় সাহা, নওয়াপাড়ার শাহজালাল, বেনাপোল সিএন্ডএফ’র বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লা প্রমুখ।