সিরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছে রাশিয়া
সংগৃহীত
সিরিয়া থেকে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার সিরিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতির একটি লক্ষণ হতে পারে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চিত্রে সিরিয়ার রুশ নিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানঘাঁটিতে সামরিক যান এবং পরিবহন বিমান চলাচল দেখানো হয়েছে।
বিশেষ করে ১৩ ডিসেম্বর হেমেইমিম রুশ ঘাঁটিতে ভারী পরিবহন বিমান উপস্থিতি এবং রাশিয়ার সামরিক ট্রাকের চলাচল এই ধারণাকে শক্তিশালী করেছে। এদিকে, কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিরিয়ার নতুন সরকারকে সঙ্গে রেখে রাশিয়া কিছু পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা তার ভবিষ্যৎ কৌশলগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হতে পারে।
বিবিসি জানায়, স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে সিরিয়ার রুশ নিয়ন্ত্রিত একটি বন্দর এবং বিমানঘাঁটিতে সামরিক যান দেখা গেছে। পরিবহন বিমানও সম্প্রতি সেখানে পৌঁছাতে এবং ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর হেমেইমিম রুশ ঘাঁটিতে ভারি একটি পরিবহন বিমান দেখা যায় ছবিতে। বিবিসি ভেরিফাই করা জিওট্যাগ করা কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাশিয়ার সারি সারি সামরিক ট্রাক উত্তরে এই ঘাঁটিগুলোর দিকে যাচ্ছে।
এসবই সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম কমিয়ে ফেলা কিংবা ঘাঁটি পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির লক্ষণ— বলছে মার্কিন গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়্যার’।
তবে প্রতিষ্ঠানটি এও বলেছে যে, দামেস্কে নতুন সরকারের সঙ্গে মস্কোর আলোচনায় বসার চেষ্টার এ সময়ে ঘাঁটির সামরিক সরঞ্জাম সরানোটা পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপও হতে পারে।
গত ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহীদের অভিযানে সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়া প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মিত্র ছিল রাশিয়া। আসাদের শাসনামলে সিরিয়ায় বিশালকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল রাশিয়া। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া সহায়তা করেছিল।
এখন আসাদের পতনের পর রাশিয়া সেসব ঘাঁটি গুটিয়ে নিতে চাইছে, এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে স্যাটেলাইট চিত্র থেকে। যদিও এর আগে সিরীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং আলাউইতি পর্বতমালা থেকে সেনা সরালেও মূল দুই ঘাঁটি থেকে রাশিয়া সরে যাবে না।
সিরিয়ায় রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘাঁটি হচ্ছে— সিরিয়ার বন্দর নগরী তারতুসের নৌঘাঁটি। ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। পরে রাশিয়া ২০১২ সালে ঘাঁটিটি আরও সম্প্রসারণ করে এবং আধুনিক করে গড়ে তোলে।
আরেকটি হচ্ছে— হেমেইমিমের বিমানঘাঁটি। এই ঘাঁটি কাজ করছে ২০১৫ সাল থেকে। আসাদের সমর্থনে সিরিয়াজুড়ে বিমান হামলা চালানো হত এই ঘাঁটি থেকে।
দুটো ঘাঁটিই রাশিয়ার জন্য কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর কোরিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগর সবই রাশিয়ার এই ঘাঁটিগুলোর আওতার মধ্যে পড়ে।
কিন্তু বাশার আল-আসাদের পতনে সিরিয়ায় রাশিয়ার এই সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাশিয়া বিষয়টি নিয়ে নতুন সিরিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।