গাজায় স্কুল-হাসপাতাল-সেফ জোনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫০
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে থামছেই না ইসরায়েলি বর্বরতা। গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার দেশটির হামলায় আরও অর্ধশত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল-স্কুল ও সেফ জোনে এসব হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ নিয়ে ১৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে চালানো ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪৫ হাজার ২৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি।
গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা যেতে না পারায় এখনো বহু মানুষ হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়েছেন। তাদের অনেকে মারা যেতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসির তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ বোমাবর্ষণ করেছে। এতে তাবুতে আগুন লেগে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা করেছে। স্কুল ও হাসপাতালে হামলা এখন ‘সাধারণ’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার শিশুরা ‘ঠান্ডা, অসুস্থ এবং আঘাতপ্রাপ্ত’, ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত অঞ্চলের ৯৬ শতাংশ নারী ও শিশু শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মৌলিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অক্ষম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা থেকে বাদ যায়নি ২৩ লাখ বাসিন্দার এই উপত্যকার মসজিদ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন, এমনকি শরণার্থীশিবিরও।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২০ লাখের বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইসরায়েলি নির্বিচার হামলা গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, ইসরায়েলের আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজাবাসী চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
দখলদার দেশটির নিরলস হামলা এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৬২৭ জন।