ভাঙ্গায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ভাঙ্গায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ছবি : প্রতীকি

ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ১০ দিন পর আহত সরোয়ার মুন্সী (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সরোয়ার মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাউতিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি গত ১২ ডিসেম্বর সংঘর্ষে আহত হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছিলেন। 

এরপর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যান। শনিবার রাতে বাড়িতে পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর পেঁয়াজের বীজ না গজানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসির মধ্যে ঘণ্টাব্যাপি সংঘর্ষ হয়েছিলো। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছিলো। গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই দিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছিলো। ঘটনাটি ঘটেছিলো গত ১২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের হিরালদী ও সাওতিকান্দা গ্রামবাসির মধ্যে। 
এলাকাবাসি সূত্রে আরও জানা যায়, হিরালদী গ্রামের পেঁয়াজ বীজ ব্যবসায়ী সামচু দাই  এ বছর বীজ ক্রয় করেন পাশের সাওতিকান্দা গ্রামের আওলাদ মাতুব্বরের নিকট থেকে। এ বীজ না গজানোয় সামচু দাই আওলাদ মাতুব্বরের নিকট ক্ষতিপূরণ দাবী করেন। গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাশের চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম বাজারে সামচু দাই ও আওলাদ মাতুব্বরের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আওলাদ মাতুব্বরকে সামচু দাইয়ের লোকজন মারপিট করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুই গ্রামের কয়েকশত লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় কমপক্ষে ১২ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। 
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে ৬ জনকে ভাঙ্গা  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এর মধ্যে হিরালদী গ্রামের সামচু দাইয়ের ভাতিজা মো. শাকিল দাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় সংঘর্ষে আহত সামচু দাইয়ের পক্ষের হিরালদী গ্রামের মনির দাই (৪৮), হান্নান দাই (৩০), জনি দাই (৩৩) ও আওলাদ মাতুব্বরের পক্ষের সাউতিকান্দা গ্রামের মো. সাজ্জাদ হাওলাদার (২৮), সরোয়ার মুন্সী (৫৫) কে। শাকিল দাইয়ের একাধিক দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিলো। 

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সরোয়ার মুন্সী আহত হয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে  পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।