আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে যা জানা গেল

আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে যা জানা গেল

সংগৃহীত ছবি

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায়। সোমবার ইরান থেকে ছোড়া একাধিক আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব হামলাকে দেশের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং পরিস্থিতির ‘গুরুতর অবনতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আবুধাবি।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। এসব হামলায় তিনজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে আমিরাত বলেছে, সর্বশেষ হামলার জবাবে তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে ‘পূর্ণ ও বৈধ অধিকার’ সংরক্ষণ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা শুধু সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়, বরং অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই ইরানের পদক্ষেপকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন ও বিপজ্জনক উসকানি’ বলে নিন্দা করেছেন।

এর আগে একই দিনে আমিরাত হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ এক তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এডনকের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপকূলের কাছে এমভি বারাকা নামের একটি জাহাজে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি এবং জাহাজটিতে তখন কোনো পণ্য বহন করা হচ্ছিল না।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা এবং হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক চাপ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আসলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জলদস্যুতামূলক কর্মকাণ্ড। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সোমবার থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলে সরাসরি সহায়তা শুরু করবে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সময়ে ইরান আমিরাতের দিকে ২৮০০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। নতুন এই হামলার ঘটনায় জর্ডান, বাহরাইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে বলে উল্লেখ করেছে।