মানুষের ধন-সম্পদ বেড়ে যাওয়া নিয়ে যা বলেছেন নবীজি
ফাইল ছবি
ধন-সম্পদ বেড়ে যাওয়া কেয়ামতের অন্যতম আলামত। এমন অবস্থা হবে যে, জাকাত দেওয়ার জন্য ফকির-মিসকিন খুঁজে পাওয়া যাবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ لَا أَرَبَ لِي ‘কেয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমাদের মধ্যে সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে উপচে না পড়বে, এমনকি সম্পদের মালিকগণ তার সদকা কে গ্রহণ করবে তা নিয়ে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। যাকেই দান করতে চাইবে সে-ই বলবে, প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ মুসলিম: ১৪১২)
অন্য বর্ণনায় নবী (স.) বলেন, ‘মানুষের কাছে এমন সময় আসবে, যখন স্বর্ণ দান করার জন্য লোক ঘুরে বেড়াবে, কিন্তু তা নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।’ (বুখারি: ১৪১৪)
আল্লাহর রাসুল (স.) আরও বলেন, কেয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারি, বকরির পালের মহামারির মতো, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দিনার দেয়ার পরেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি-যা তোমাদের ও বানী আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রত্যেক পতাকার নিচে থাকবে বার হাজার সৈন্য। (সহিহ বুখারি: ৩১৭৬)
সম্পদের পরিমাণ এত বৃদ্ধি পাবে যে বৈধভাবেই বহু সম্পদের মালিক হবে মানুষ। অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জনকারী আফসোস করবে। রাসুল (স.) বলেন, ‘জমিন তার বক্ষস্থিত বস্তু সোনা ও রুপা স্তম্ভের মতো বের করে দেবে। তখন হত্যাকারী ব্যক্তি এসে বলবে, আমি এর জন্য হত্যা করেছি। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ব্যক্তি এসে বলবে, আমি এর জন্য আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছি। চোর এসে বলবে, এরই কারণে আমার হাত কাটা হয়েছে। অতঃপর সবাই তা ছেড়ে দেবে। এর থেকে তারা কেউ কিছু নেবে না।’ (মুসলিম: ১০১৩)
এভাবে সম্পদ বেড়ে যাওয়ার আলামতটি একাধিক সময়ে প্রকাশিত হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন আলেমদের অনেকে। যেমন ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের শাসনামলে তা প্রকাশিত হয়েছিল। ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান বলেন, ‘ওমর ইবনে আব্দুল আজিজেরর শাসনামলে লোকেরা প্রচুর সম্পদ নিয়ে আমাদের কাছে আগমণ করতো। তারা আমাদেরকে বলত- তোমরা যেখানে প্রয়োজন মনে করো সেখানে এগুলো বিতরণ করে দাও। গ্রহণ করার মতো লোক না পাওয়া যাওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে কেউ মাল গ্রহণ করতে রাজি হতো না। পরিশেষে মাল ফেরত নিতে বাধ্য হতো। মোট কথা তাঁর শাসন আমলে জাকাত নেয়ার মতো লোক ছিল না। (ফাতহুল বারি: ১৩/৮৩)
আর এই সম্পদ আরো বৃদ্ধি পাবে, যখন ইমাম মাহদি ও ঈসা (আ.) পৃথিবীতে আগমন করবেন। রাসুল (স.) বলেন, ‘আমার উম্মতের শেষ যুগে মাহদির আগমন ঘটবে। আল্লাহ তাকে পানি দ্বারা সিক্ত করবেন। জমিন তার শস্য উৎপাদন করবে। প্রচুর সম্পদ দান করা হবে। ফলে জাতি নেয়ামতপ্রাপ্ত হবে। চতুষ্পদ জন্তু বৃদ্ধি পাবে। তিনি সাত বা আট বছর অবস্থান করবেন।’ (সিলসিলাহ সহিহাহ: ৭৭১)
অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অচিরেই তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচারকরূপে মারিয়াম তনয় (ঈসা আ.) অবতরণ করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিজিয়া রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরুপ প্রাচুর্য হবে যে কেউ তা গ্রহণ করবে না।’ (বুখারি: ২২২২)