কবুতরের বিষ্ঠা হতে যেসব রোগ ছড়াতে পারে
ছবিঃ সংগৃহীত।
শখ করে বা পেশা হিসেবে অনেকেই কবুতর পোষেন। তাদের যত্ন করতে নিয়মিত নানাভাবে কবুতরের সংস্পর্শে আসেন তারা। এমন অবস্থায় কবুতরের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর রোগে আক্রান্ত হতে পারেন এসব মানুষ। কেউ আবার রাস্তাঘাটের পায়রার দলকেই ভালোবেসে দানা খাওয়ান। পায়রারাও মানুষের সঙ্গ পছন্দ করে। গৃহপালিত পায়রাদের ছেড়ে দিলে নির্দিষ্ট সময় পর ফের পালকের কাছে তারা ফিরে আসে।
সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর একটি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে কবুতরের বিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত এক ধরনের প্রদাহকে। পথেঘাটে বা পরিবেশে মল-মূত্র বিশেষ করে পশু বা পাখির মল থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। এটি মানবদেহের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন প্রদাহের ফলে কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, জ্বর, মেনিনজাইটিস হতে পারে। এই নির্দিষ্ট প্রদাহটি অবশ্য মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু রোগের তালিকা দেওয়া হলো:
সংক্রামক ব্যাধি
ডাইরিয়া মলের মাধ্যমে পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া (যেমন, E.coli বা Shigella) সংক্রমণ ঘটায়। কলেরা মলে থাকা ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। টায়ফয়েড (Salmonella typhi) ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, যা মলের মাধ্যমে দূষিত পানিতে থাকে যা হেপাটাইটিস এ ও ই মলের মাধ্যমে ভাইরাস খাবারের সঙ্গে মিশে এই রোগের সৃষ্টি হয়।
পরজীবীজনিত রোগ
অ্যামিবিয়াসিস নামক পরজীবী থেকে ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা হতে পারে। জিয়ার্ডিয়াসিস হেলমিনথ সংক্রমণ মলের মাধ্যমে অস্কারিস বা হুকওয়ার্ম জাতীয় পোকা মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে এবং পরজীবী জনিত রোগ হয়।
শ্বাসতন্ত্রের রোগ
লেপ্টোসপাইরোসিস মলে থাকা ব্যাকটেরিয়া ত্বকের মাধ্যমে প্রবেশ করে জ্বর, কিডনি বা লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
ত্বকের রোগ
স্ক্যাবিস বা চর্মরোগ মলে থাকা পরজীবী বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটিয়ে ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যান্য রোগ
জিকা ভাইরাস বা ডেঙ্গু মল-পানিতে জন্মানো মশার মাধ্যমে ছড়ায় আর এতে করে অনান্য রোগ ও ছড়ায়। র্যাবিস মল-মূত্রে ভাইরাস থাকলে তা পশুর কামড় বা সংস্পর্শে আসতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং স্যানিটেশনের সঠিক ব্যবস্থা করা। দূষিত খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলা ও হাত ভালোভাবে ধোয়া (বিশেষ করে খাওয়ার আগে ও বাথরুম ব্যবহারের পরে)। এগুলো মেনে চললে মল বা দূষিত পরিবেশ থেকে রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।