সব দ‌লের মতামত ছাড়া সংস্কার টেকসই হ‌বে না: জি এম কাদের

সব দ‌লের মতামত ছাড়া সংস্কার টেকসই হ‌বে না: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের

সব দ‌লের মতামত না নি‌লে সংস্কার টেকসই হ‌বে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় পা‌র্টিসহ দে‌শের বড় রাজনৈতিক দল ছাড়া নির্বাচনও গ্রহণ‌যোগ্য হ‌বে না।

বুধবার (১ জানুয়ারি) জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করেছিল দলটি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন ক‌রেন তারা।

তিনি বলেন, অহিংসভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করব, এটা আমাদের অধিকার। আমরা একটি রাজনৈতিক নিবন্ধিত দল, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার আমাদের আইনগত অধিকার।

জি এম কাদের বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সবাইকে নিয়ে বসে দেশ পরিচালনা করবে অন্তবর্তীকালীন সরকার। কিন্তু বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের দেশে কোনো সরকার ক্ষমতা ছেড়ে যেতে চায় না, এর অন্যতম কারণ কোনও সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে না।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় ঐক্যের নামে নিবন্ধিত ৪৮ দলের মধ্যে ১৮টি দলকে বৈঠকে ডাকলেন, ৩০টি দলকে বাদ দিলেন। প্রায় ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে ঐক্য হয় না। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার করার পরও ডাকা হলো না। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জাতীয় পার্টির গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে ৩ মাস ধরে, আরেকজন নেতাকে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার-অনাচার করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি মনে করি, কেউই নিরাপদ নই। কে কখন কীভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে যাবেন, বলতে পারবেন না। যেভাবে দেশকে বিভক্ত করেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করা আপনাদের পক্ষে কতটা সম্ভব প্রশ্ন রয়েছে। আপনারা সংস্কার দিতে সক্ষম হবেন না। সংস্কার করতে গেলে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

জিএম কাদের আরও বলেন, বলা হচ্ছে আগে আমরা হত্যার বিচার করবো, তারপর নির্বাচন। তারা যাদেরকে দোসর মনে করছে, তার নামেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিচারের ক্ষেত্রে বলা হয় ১০ জন্য দোষী ছাড়া পেয়ে গেলেও একজন নির্দোষ লোক যেন সাজা না পায়। আমরা দেখছি উল্টো। প্রতিহিংসার আগুন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো হচ্ছে।