কৃষির তিন ভিসিও প্রাণিসম্পদ ডিজিকে বাকৃবির সংবর্ধনা প্রদান
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ, দেশের তিন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালককে (ডিজি) সম্মাননা প্রদান করেছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ভিসিঅধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। সংবর্ধনা প্রদানকালে তাদের দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সম্মানিত করা হয়।
সংবর্ধনা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচিতি-
অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তার ব্যাচে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। তিনি ভাইরোলজি, মলিকুলার এপিডেমিওলজি এবং ভ্যাকসিন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। বিশেষ করে তিনি পোল্ট্রি ও গবাদি পশুর রোগের চিকিৎসায় নিউক্যাসল ডিজিজ, ইনফেকশিয়াস ব্রঙ্কাইটিস এবং লাম্পি স্কিন ডিজিজ-এর ভ্যাকসিন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি মাল্টিপ্লেক্স আরটি-পিসিআর কিট এবং ভাইরাস সনাক্তকরণের রোবোটিক আরবিসি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।
অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৯৮ সালে মাস্টার্স ইন ফার্মাকোলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে প্রাণীসম্পদ ক্যাডারে যোগ দেন এবং তার গবেষণাপত্রগুলো বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গুগল স্কলার অনুসারে ১০৮টি গবেষণাপত্র এবং ২,২৩৪টি সাইটেশন পেয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ১৯৯৯ সালে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে গবেষণা এবং শিক্ষায় নিয়োজিত আছেন। তার গবেষণাপত্রগুলো দেশী ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি অসংখ্য দেশি ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন।
ড. মো. আবু সুফিয়ান
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান ১৯৯৫ সালে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৯৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯ তম বিসিএস-এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বহু গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘দেশের সকল ভেটেরিনারিয়ানদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের মানুষের সেবা করা এবং কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য কোয়ালিটি গ্রাজুয়েট তৈরি করাই অন্যতম প্রাথমিক পদক্ষেপ।’
রও বলেন, ‘যদি আমরা সত্যবাদিতা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তবে ভিসিদের দায়িত্ব কঠিন কিছু হবে না।’
ঐতিহ্য ও অবদান
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এরা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করেননি, তারা ভেটেরিনারি অনুষদের ঐতিহ্য এবং অবদানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং টেকসই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভেটেরিনারি অনুষদ শুরু থেকেই দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং টেকসই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। আধুনিক গবেষণাগার, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ রক্ষায় এই অনুষদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি
অধ্যাপক বাহানুর রহমান বলেন, ‘আজকের এই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা তাদের কর্মজীবনে যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন তা আমাদের শিক্ষার মান, গবেষণার উৎকর্ষ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের সক্ষমতার প্রতিফলন। তারা শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে অসামান্য ভূমিকা রাখছেন এবং ভবিষ্যতেও রাখবেন।’