পে-কমিশনসহ সরকারি কর্মচারীদের ৭ দফা দাবি
ফাইল ছবি
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পে-কমিশন গঠন, অন্তর্বর্তীকালের জন্য ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা, ২০ শতাংশ বার্ষিক বর্ধিত বেতন প্রদানসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় ওই দাবি জানান তারা।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সরকারি কর্মচারীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তৃতা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।
বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পে-কমিশন গঠক করতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ৫০% মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে। ইতোমধ্যে যাদের মূল বেতন শেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত করতে হবে। বেতন স্কেলের বৈষম্য নিরসনের জন্য ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পে-কমিশনে কর্মচারী প্রতিনিধি রাখতে হবে। সচিবালয়ের ১৯৯৫ সালের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সব অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক এবং সাঁটলিপিকারসহ সমপদগুলোর পদবি ও গ্রেড পরিবর্তন করে যথাক্রমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা/ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাম করনসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে এবং এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে। ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল এবং সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০%-এর স্থলে ১০০% নির্ধারণ ও পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়নসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন নিয়োগ বিধি-২০১৯ এর ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে। আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিলপূর্বক এই পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করতে হবে। এছাড়া কারিগরি কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দিতে হবে। বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে সব ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ, ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড প্রদান করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ জানান তারা।
সভায় আরও বক্তৃতা করেন সংগঠনের মূখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী, সমন্বয়ক এমএ হান্নান, মো. আব্দুল মতিন, খায়ের আহম্মেদ মজুমদার প্রমুখ।