কুয়েটে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ফাইল ছবি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ১০ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার ও তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি প্রকাশ পায়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- মো. রায়হান আহমেদ, সাদমান নাহিয়ান সেজান, সাদ আহমেদ, সাজেদুল কবির, আদনান রাফি, রিজুয়ান ইসলাম রিজভি, ফুয়াদুজ্জামান ফাহিম, মো. মেহেদী হাসান মিঠু, মো. সাফাত মোর্শেদ ও মো. ফখরুল ইসলাম। এর মধ্যে রায়হান, সাদ, সাজেদুল ও রাফির বিএসসি ইঞ্জিনিয়িারিং সনদ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মোস্তাক আহমেদকে ৫ বছর এবং শুভেন্দু দাস ও ফারিয়ার জামিল নিহালকে ৩ বছরের জন্য কোনো প্রকার সনদ প্রদান করা হবে না। তাদেরকে চিরতরে জন্য প্রশংসাপত্র দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কুয়েট কর্তৃপক্ষ জানায়, মোবাইল অ্যাপে সরকার বিরোধী ‘চ্যাটিং’ এর অভিযোগে ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কুয়েটের ড. এমএ রশিদ হলের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানকে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে গেস্ট রুমে নিয়ে সারারাত মারধর করা হয়। ভোরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বেশ কয়েকদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন জাহিদ।
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নির্যাতনের বিচার চেয়ে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন ওই শিক্ষার্থী। গতবছর ১৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।