ইফতারের পর যেসব আমল করা উত্তম
প্রতীকী ছবি।
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে ইফতারের সময় ও ইফতারের পর করা আমলগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারের পর কিছু নেক আমল করলে গুনাহ কমে এবং আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ করা যায়।
কুরআন ও হাদিস থেকে এর প্রমাণ দেওয়া হলো:
১. মাগরিবের নামাজ আদায় করা: ইফতারের পর দেরি না করে মাগরিবের নামাজ আদায় করা উচিত। নামাজ হলো গুনাহ মোচনের প্রধান মাধ্যম।
আল-কুরআন বলা হয়েছে, ‘নামাজ কায়েম করো, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কারো দরজার সামনে দিয়ে যদি প্রতিদিন পাঁচবার একটি নদী প্রবাহিত হয় এবং সে যদি তাতে গোসল করে, তবে তার দেহে কি কোনো ময়লা থাকতে পারে?’ সাহাবিরা বললেন, ‘না, কোনো ময়লা থাকবে না।’ তখন নবী (সা.) বললেন, ‘এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মুছে দেন।’ (বুখারি: ৫২৮, মুসলিম: ৬৬৮)
২. আল্লাহর কাছে দোয়া ও ইস্তিগফার করা: ইফতার শেষে দোয়া কবুল হওয়ার সময়, তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকে ফিরে এসো।’ (সূরা হুদ: ৩)
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাকে সব সংকট থেকে উদ্ধার করেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (আবু দাউদ: ১৫১৮)
৩. কুরআন তিলাওয়াত করা: কুরআন পড়া গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। ‘নিশ্চয়ই এই কুরআন সবচেয়ে সরল পথে পরিচালিত করে।’ (সূরা বনি ইসরাঈল: ৯)
হাদিস রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে, সে এর জন্য দশগুণ সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি: ২৯১০)
৪. ইশা ও তারাবিহ নামাজ আদায় করা: রমজানে তারাবিহ নামাজ পড়লে অতীত গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হাদিস এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে রমজানের রাতে (তারাবিহ) নামাজ আদায় করবে, তার অতীত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ২০০৮, মুসলিম: ৭৬০)
৫. দরুদ শরিফ পাঠ করা: দরুদ পড়লে গুনাহ মাফ হয় এবং নেকি বৃদ্ধি পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাজিল করেন, দশটি গুনাহ মোচন করেন এবং তার জন্য দশগুণ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।’ (মুসলিম: ৪০৮)
৬. সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও অন্যান্য জিকির করা: জিকির গুনাহ কমানোর অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত হয়, জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সূরা রা’দ: ২৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে ১০০ বার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার বলে, তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়।’ (বুখারি: ৬৪০৫, মুসলিম: ২৬৯১)