যশোরে টিসিবির কার্ড ও পণ্য বিতরণ নিয়ে বিশৃংখলা

যশোরে টিসিবির কার্ড ও পণ্য বিতরণ নিয়ে বিশৃংখলা

ছবি: প্রতিনিধি

যশোর প্রতিনিধি:  টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) কার্ড ও পণ্য বিতরণ নিয়ে যশোরে বিশৃংখল ও খানিকটা অচলাবস্থা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এনিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে জেলার বিভিন্ন স্থানে মারামারি, হামলা, মামলা, শ্লীলতাহানি, বাড়িতে আগুন দেওয়া, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে পণ্য ভাগাভাগিও থামানো যাচ্ছে না।

এদিকে ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলায় এখনো কার্ড বিতরণ সম্পন্ন না হওয়ায় সুবিধাভোগীরা টিসিবির পণ্য পাচ্ছেন না। এনিয়ে সেখানকার সুবিধাভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সরকার রমজানে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে খোলা ট্রাকে ও ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবি পণ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আগের টিসিবি কার্ড বাতিল করে নতুন স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিলেও তা বিতরণ সম্পন্ন পারেনি কর্তৃপক্ষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবেই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে না ইউনিয়ন পরিষদ। যে কারণে পণ্য বিতরণ করতে পারছেন না বলে টিসিবি ডিলারদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝিকরগাছার এক ডিলার বলেন, এ উপজেলায় কার্ড যেনো বিতরণ না করা হয় সেজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। এ জন্য আমরা পণ্য বিতরণে ঝুঁকি নিতে পারছি না।
মণিরামপুরে টিসিবির পণ্যের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বঞ্চিত প্রায় দুই হাজার মানুষ। ৩ মার্চ যশোর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় তারা ইউএনও নিশাত তামান্নার অপসারণেরও দাবি তোলেন। এ উপজেলায় টিসিবির তালিকা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ইউপি সদস্যকে শ্রীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

যশোর সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়নে ৯১৭ কার্ডের মধ্যে বিএনপি ১০০ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা মিলে ৬০টি কার্ডের পণ্য ভাগ করে নেয়। এ নিয়ে তুমুল হট্টগোল হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারির এ ঘটনার খবর পেয়ে সদরের ইউএনও শারমিন আক্তার কার্ডধারীকে টিসিবি পণ্য দেয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিষদে গিয়ে গায়ের জোরে পণ্য বিতরণ বন্ধ করে দেন।
টিসিবির কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামে বিএনপির দুই নেতার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে। এর জেরে পরে তিনটি বাড়িতে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে দুটি মামলা হয়েছে। এভাবে টিসিবির পণ্য ও কার্ড নিয়ে বিশৃংখলা লেগেই আছে। অতি দ্রুত কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করে পণ্য প্রদানসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সচেতন মহলের আশংকা।

ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুরের একাধিক সুবিধাভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রমজান অর্ধেক পার হয়ে গেলো। কিন্তু রমজানের বরাদ্দ তারা এখনো পেলেন না। এটা অমানবিক।  
ঝিকরগাছার ইউএনও ভুপালী সরকার বলেন, ‘টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ না করতে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত চিঠি দিয়েছেন একটি গ্রুপ। তারপরও সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’ বাঘারপাড়ার ইউএনও শোভন সরকার বলেন, টিসিবি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। শেষ হলেই পণ্য বিতরণ করা হবে। যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড ও পণ্য বিতরণ চলমান আছে।’

জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, কার্ডধারীরাই পণ্য পাবেন। কার্ডধারীরা উপস্থিত না থাকলে উপস্থিত এনআইডি কার্ডধারীদের পণ্য দেওয়া হবে। যেসব উপজেলায় স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি সেখানে দ্রুতই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর পুরোদমে ফ্যামেলি কার্ডে টিসিবি কার্যক্রম শুরু হবে।