স্বাধীনতা দিবসে মুক্তেশ্বরী নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলো আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তেশ্বরী নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলো আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ছবি: প্রতিনিধি

যশোর প্রতিনিধি: ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যকে স্মরণ করে ২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার দুপুরে যশোরের শহরতলীর পুলেরহাটে অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এদিন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রায় একশো কেজির অধিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা মুক্তেশ্বরী নদে ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে ছিল তেলাপিয়া, মিনার কার্প, গ্রাস কার্প, রুই, মৃগেল এবং কাতলা মাছ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার দিকে একটি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতে আরও মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক উদ্যোগের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। তিনি মুক্তেশ্বরী নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ইমদাদুল হক, গাইনী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেছা বেগম, আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের পরিচালক মো. ফজলুল হক, চক্ষু প্রকল্পের এজিএম মো. রবিউল হকসহ আরও অনেকেই।

প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবসে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন একেবারেই নতুন ও অনুকরণীয়।” তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতা দিবসে সাধারণত একঘেয়ে কর্মসূচির বাইরে গিয়ে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি সমাজের বিত্তবানদের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। এতে সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় জেলেরা এসব জলাশয়ে মাছ সংগ্রহ করে খেতে পারবেন, যা তাঁদের জীবিকা ও খাদ্য সরবরাহের জন্য সহায়ক হবে।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ইমদাদুল হক জানান, “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আমরা প্রতি বছর এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেছা বেগম এবং আদ্-দ্বীন চক্ষু প্রকল্পের এজিএম মো. রবিউল হক বলেন, “ফারাক্কা বাধের প্রভাবে আমাদের দেশের নদীগুলো মৃতপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত এগুলো খনন করে তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনঃস্থাপন করা, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।”