বাংলাদেশে ১ দিনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা জানালো বিবিএস
ছবি: প্রতীকী
বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন দেশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি পরিবার স্মার্টফোন ব্যবহার করে এবং অর্ধেকের বেশি পরিবার ইন্টারনেটের আওতায় এসেছে। ব্যক্তি পর্যায়ে দিনে অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে এমন মানুষের হার ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক জরিপ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ২ হাজার ৫৬৮ টি এলাকার ৬১ হাজার ৬৩২ টি পরিবারের ওপর জরিপটি চালানো হয়।
জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ৫২.৪ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যেখানে ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৪৩.৬ শতাংশ। বছরে প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। একই হারে ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যবহারও বেড়েছে।
তবে শহর-গ্রামের ব্যবহারে এখনও পার্থক্য রয়েছে। শহরে ৬০ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যেখানে গ্রামে এই হার ৪৬ শতাংশ। ব্যক্তি পর্যায়ে শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৬৮.৪ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৩৭.৫ শতাংশ।
সপ্তাহে একবার হলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১৮.৪ শতাংশ মানুষ এবং সপ্তাহে একবারের কম ব্যবহার করে ৬.৩ শতাংশ।
মোবাইল ফোন ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। ৯৮.৭ শতাংশ পরিবারের কাছে এখন মোবাইল ফোন রয়েছে, যা গত বছর ছিল ৯৭.৯ শতাংশ। ব্যক্তিপর্যায়ে মোবাইল ফোনের মালিকানা ৯০.২ শতাংশ।
স্মার্টফোন ব্যবহারে বড়সড় পরিবর্তন দেখা গেছে। বর্তমানে ৭২.৩ শতাংশ পরিবারের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৬৩.৩ শতাংশ। শহর-গ্রাম উভয় এলাকাতেই ব্যবহার বেড়েছে, তবে শহর এগিয়ে আছে।
তবে এসব বৃদ্ধির বিপরীতে কম্পিউটার ব্যবহারে কোনো অগ্রগতি নেই। আগের মতোই মাত্র ৯.২ শতাংশ পরিবার কম্পিউটার ব্যবহার করছে।
পরিবার পর্যায়ে টেলিভিশনের ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে-৬৩.৬ শতাংশ পরিবারে এখন টেলিভিশন রয়েছে (২০২৩ সালে ছিল ৬২.২ শতাংশ)। বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এমন পরিবারের হার ৯৯.১ শতাংশ।
বিবিএস জানায়, তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে পাঁচ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের কাছ থেকে, শহর ও গ্রামের পারিবারিক পরিবেশ বিবেচনায় রেখে। এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ (যেমন আইটিইউ ও এসডিজি ট্র্যাকার) নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।