লক্ষ্মীপুরে ৬ বছরেও শেষ হয়নি সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ

লক্ষ্মীপুরে ৬ বছরেও শেষ হয়নি সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ

ছবি : সংগৃহীত

গত ৬ বছরেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের। নতুন ভবনটির কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের জুন মাসে, কাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। সে হিসেবে কাজটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৬ বছরেও কাজটি এখনও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স। ২৫০ শয্যার এ ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পুরাতন ভবনে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের। শয্যা সংকট ও স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের মেঝেতে, করিডোরে, বারান্দায়, শৌচাগারের সামনের অংশেও নোংরা পরিবেশে ভর্তি থাকে সেবা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়ম বেগম বলেন, সিট খালি না থাকায় তিন দিন ধরে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চারিদিকে নোংরা পরিবেশে আরও অসুস্থ হয়ে যাবার মত অবস্থা।

ডায়রিয়াতে আক্রান্ত বাচ্চাকে নিয়ে আসা শিল্পী রাণী দাস বলেন, শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগীদের সংখ্যা বেশী হওয়ায় একই বেডে ৩/৪ জন করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে জীবাণু সংক্রামণ হওয়ায় ঝুঁকি বেশী। 

সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ ইকবাল মাহমুদ জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। এখন প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। এতে চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নতুন ভবনটির কাজ সম্পন্ন হলেই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হবে। তখন রোগীদের ভোগান্তি কমবে।

জেলাবাসীকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা করা হয়। কাজটি পায় রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স কনস্যুডিয়াম নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রথম পর্যায়ে কাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ ৯ হাজার ৬৪ টাকা। এরপর দফায় দফায় কাজের সময় ও নির্মাণ ব্যয় বাড়ালেও গত ৬ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স কনস্যুডিয়ামের ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন বলেন, করোনার কারণে কাজের ধীরগতি হয়েছে। তাছাড়া নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। খুব দ্রুত কাজটি শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য গণপূর্ত অফিসে কয়েকবার গিয়েও পাওয়া যায়নি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে প্রায় ৩ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। শয্যা সংকট কম থাকার কারণে ডাক্তার ও নার্সরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন ভবন চালু হলে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের সুবিধাভোগ সম্ভব হবে রোগীদের। নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে রোগীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রের বিদ্যমান সংকট দূর হবে বলে আশা রোগী ও স্থানীয়দের।