ইহরাম বাঁধার দোয়া
ছবি: সংগৃহীত
ইহরাম হজ ও ওমরার প্রথম রুকন। মিকাত (নির্ধারিত স্থান) অতিক্রম করার আগে ইহরাম বাঁধা ফরজ। ইহরাম (اَلْاِحْرَامُ) শব্দটি হারাম (حَرَامٌ) শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ হলো কোনো বিষয়কে নিজের ওপর হারাম বা নিষিদ্ধ করে নেওয়া। ইহরামের মাধ্যমে কিছু বিষয়কে নিজের ওপর হারাম বা নিষিদ্ধ করে নেওয়া হয়, যেমন স্ত্রী সহবাস, মাথার চুল, হাতের নখ, গোঁফ, বগল ও নাভির নিচের ক্ষৌর কর্যাদি, সুগন্ধি ব্যবহার, সেলাই করা পোশাক পরিধান এবং শিকার করা ইত্যাদি।
দোয়ার মাধ্যমে ইহরাম শুরু করা ভালো। পবিত্র সফরের শুরুতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া নিশ্চয়ই একটি অর্থবহ পদক্ষেপ। যা ইবাদতে ইখলাস আনতে ও দুনিয়াবি চিন্তাভাবনা ত্যাগ করতে সহায়তা করে। ইহরাম বাঁধার সময় আমরা নিচের দোয়াগুলো পড়তে পারি।
১. اللَّهُمَّ لَكَ أَحرَمُ نَفسِي وَشَعرِيْ وَبَشَرِي وَلَحمِي وَدَمِي উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা আহরামু নাফসী ওয়া শা’রী, ওয়া বাশারী ওয়া লাহমী ওয়া দামী।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আমার নফস, চুল, চামড়া, গোশত, রক্ত আপনার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।’
২. اللَّهُمَّ إِنِّيْ نَوَيْتُ الْحَجَّ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّيْ উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী নাওয়াইতুল হাজ্জা ফায়াসসিরহু লী ওয়া তাক্বাব্বালহু মিন্নী।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি হজের নিয়ত করেছি, তাই আমাকে এতে সাহায্য করুন এবং আমার কাছ থেকে তা কবুল করুন।’
৩. لَبَّيْكَ ا للّهُمَّ لَبَّيْكَ - لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ - اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ - لاَ شَرِيْكَ لَكَ উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থ: আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি, হে আল্লাহ! আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমি আাপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত এবং সাম্রাজ্য আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।’ (বুখারি: ১৫৪৯; মুসলিম: ২৮১১)
এখানে তিন নম্বর দোয়াটি হলো তালবিয়া। ইহরামের পর তালবিয়া পাঠ করা জরুরি। এরপর থেকে তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত। বাকি দুই দোয়া না পড়লেও সমস্যা নেই। তবে পড়লে ভালো। এই তিন দোয়া ইহরাম বাঁধার সময় হজযাত্রীরা পড়ার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। আমিন।