উৎসবের মৌসুমেও ভারতে স্বর্ণ বিক্রিতে ভাটা!
সংগৃহীত
উৎসবের মৌসুমে ভারতের স্বর্ণের বাজারে চোখ ধাঁধানো দাম। অক্ষয়া তৃতীয়ার মতো স্বর্ণ ক্রয়ের শুভক্ষণেও ভাটা পড়েছে বিক্রিতে। ভোক্তারা উৎসাহী হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মূল্য। গত বছরের তুলনায় স্বর্ণের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছেন ভোক্তারা।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ, সব অঞ্চলে অক্ষয় তৃতীয়া মানেই স্বর্ণের বাজারে উৎসব। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। এপ্রিল মাসেই স্বর্ণের দাম ১০ গ্রামে ৯৯ হাজার ৩৫৮ রুপি ছুঁয়ে গেছে। যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অক্ষয়া তৃতীয়ার দিনেও দাম ছিল ৯৫ হাজারের কাছাকাছি। গত বছরের তুলনায় স্বর্ণের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছেন ভোক্তারা।
দেশটির বড় বড় গহনার দোকানগুলো মেকিং চার্জে ছাড় দিয়ে বিক্রি বাড়াতে চাইলেও মূলধারার ক্রেতারা রয়েছেন দ্বিধায়। অনেকেই গয়নাগাটি না কিনে স্বর্ণমুদ্রা ও বার কেনাকাটায় ঝুঁকেছেন বলে জানান স্বর্ণ বিক্রেতারা। পুরোনো গয়না বদলে নতুন গয়না কেনার প্রবণতা অনেক বেড়েছে বলেও জানান তারা।
স্বর্ণ কিনতে আসা এক নারী বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ায় স্বর্ণে ও রুপা কেনা শুভ বলে মনে করা হয় সমৃদ্ধির জন্য। তবে এখন তো স্বর্ণের দাম আকাশছোঁয়া! তবুও সমৃদ্ধির কথা ভেবে অন্তত এক গ্রাম বা অর্ধেক গ্রাম স্বর্ণে কিনবই। এই ভাবনা থেকেই আমি এখানে এসেছি।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেন, স্বর্ণকাররা চিন্তিত, ক্রেতারাও দুশ্চিন্তায়। যেই স্বর্ণের দাম আগে ছিল ৪০ হাজার টাকা, এখন সেটা ছুঁয়েছে এক লাখ টাকা। যাদের হাতে টাকা আছে, তারা এখনো স্বর্ণেয় বিনিয়োগ করতে পারছেন। আগে যারা ১০ তোলা স্বর্ণ কিনতে পারতেন, এখন তারা ৪-৫ তোলার স্বর্ণও কিনতে পারছেন না।
চাহিদা ধরে রাখতে ভারতীয় ডিলাররা এবার প্রতি আউন্সে ২০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন সরকারি মূল্য থেকে। এর মধ্যেই ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সেসব ছাড়ও মধ্যবিত্ত ক্রেতার সংকোচ কাটাতে পারেনি। স্বর্ণের প্রতি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক টান থাকলেও মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবতাকে এবার আবেগের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে জানান গ্রাহকরা।