যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু; স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত চিকিৎসকের জিডি

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু; স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত চিকিৎসকের জিডি

ছবি: সংগৃহিত

যশোর প্রতিনিধি: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসিব মোহাম্মদ আলী হাসান মৃত রোগীর স্বামী ও ভাইপোর বিরুদ্ধে ঘটনার একমাস পর থানায় সাধারণ ডায়েরী করলেন।

ঘটনার একমাস পর ৬ মে মঙ্গলবার কোতয়ালী মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করলেন ঐ চিকিৎসক।  

সাধারণ ডায়েরীতে ডাক্তার হাসিব মোঃ আলী হাসান উল্লেখ করেছেন, ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার যুবদল নেতা শফিউল আলম  উপল ও তার চাচা খন্দকার মাসুদুল হক, গত ৪ এপ্রিল’২৫ সকাল ৯.১৫ টায়  জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালন করাকালীন একজন রোগী নিয়ে আসেন। ডাক্তার হাসিব তৎক্ষনাৎ রোগীর কাছে ছুটে যান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু উল্লেখিত বিবাদী শফিউল আলম উপল অহেতুক আমার গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেন এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকেন। যাহার ভিডিও ফুটেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আমার নিকট সংরক্ষিত। উল্লেখ্য যে, বিবাদী উপল শুধু আমাকেই গালিগালাজ করে ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। অতঃপর ৭এপ্রিল দুপুর ২.৩০ মিনিটে আমার ডিউটি থাকায় হাসপাতালে প্রবেশের মূল ফটকে যাওয়া মাত্রই উক্ত বিবাদীদ্বয় পুনরায় আমাকে গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে।

উল্লেখ্য যে গত ৪ এপ্রিল সকালে উপল তার চাচীকে অসুস্থ অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এ সময় জরুরী বিভাগে কোন চিকিৎসা ছিলেন না। অনেক ডাকাডাকির পর অন্দরমহল থেকে ডাক্তার বেরিয়ে আসেন। রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা করেন। পরে জরুরি বিভাগে কর্মরত ব্রাদারদের দিয়ে দায়সারা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠান। পরে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে। মেডিসিন বিভাগ থেকে আই সি ইউ বিভাগের স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐদিন রাতে উপলের চাচি ও হাসপাতালের সাবেক নার্সিং সুপারভাইজার নোয়ারা খাতুনের মৃত্যু হয়।

স্বজনরা দাফন শেষে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন জানান। তার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করেন। কিন্তু তদন্ত নিরপেক্ষ না হওয়ার আশঙ্কায় স্বজনরা তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের আবেদন জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন গ্রহণ করেন। এবং নতুন নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ডাক্তার হাসিব নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলেন।