একই তেল বারবার ব্যবহার করলে বাড়ে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি
সংগৃহীত ছবি
রান্নায় ব্যবহৃত তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করলে তা মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের তেল ক্যান্সার, হৃদরোগ ও লিভারের জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পোড়া বা বারবার ব্যবহৃত তেল সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা জরুরি।
তিনি বলেন, একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তা থেকে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হয়, যা মানবদেহে গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহৃত তেল যথাযথভাবে সংগ্রহ করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি জানান, প্রতিবছর শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ট্রান্স ফ্যাট রক্তনালিতে জমে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ জন হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মৃত্যুর সাথে ট্রান্স ফ্যাটের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
এছাড়া, ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকতে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বারবার ব্যবহৃত তেলে ট্রান্স ফ্যাট ও ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা ক্যান্সার, হৃদরোগ, লিভারজনিত সমস্যা এবং অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এজন্য ভোক্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, ব্যবহৃত তেল খাদ্যে পুনঃব্যবহার না করে তা সংগ্রহ করে বায়োডিজেল উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুয়েনজার এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার মার্টিন শেস্ট্যাগ, বিএফএসএ সদস্য যথাক্রমে আ. ন. ম. নাজিম উদ্দীন এবং ড. মোহাম্মদ মোস্তফা। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, খাদ্য ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।