১০ বছর পর ইরান থেকে সৌদির হজ ফ্লাইট চালু

১০ বছর পর ইরান থেকে সৌদির হজ ফ্লাইট চালু

ছবি : সংগৃহীত

প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও ইরান থেকে হজ ফ্লাইট চালু হয়েছে। সৌদি আরবের বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইনাসের মাধ্যমে এ হজ ফ্লাইট চালু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ-তেহরানের সম্পর্কের বরফ গলার সর্বশেষ উদাহরণ এই উদ্যোগ।

রোববার (১৮ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বার্তাসংস্থাটিকে বলেছেন, ইরানি হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে দিতে শনিবার (১৭ মে) তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে আবারও হজ ফ্লাইট চালু করেছে বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি উত্তরপূর্ব ইরানের বড় শহর মাশহাদ থেকেও হজ ফ্লাইট চালু করা হবে। যার ফলে, ইরান থেকে ফ্লাইনাসের মাধ্যমে ৩৫ হাজার হজযাত্রী সৌদিতে পৌঁছাতে পারবেন। 

তবে, আপাতত দুই দেশের মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, শুধু হজযাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্যেই ফ্লাইনাসের ফ্লাইটগুলো চালু করা হয়েছে।

জুনের প্রথম সপ্তাহে হজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তেহরানে সৌদি দূতাবাস ও মাশশাদের সৌদি কনসুলেটে হামলার ঘটনার ফলশ্রুতিতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। ওই বছর সৌদি আরবে শিয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে দূতাবাস ও কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে।

ফলে, ওই বছর ইরান থেকে কোনো হজযাত্রীকে সৌদিতে পা রাখতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ইরান থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে করে হজযাত্রীদের আসার অনুমতি দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

তবে, ২০২৩ সালে দুই পক্ষের সম্পর্ক খানিকটা উষ্ণ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুন:স্থাপন হয়। সে সময় চীনের এই অর্জনকে বিশ্লেষকরা বিস্ময়কর সাফল্য বলে অভিহিত করেছিলেন। চীনের কূটনৈতিক দক্ষতায় সাত বছর পর মধ্যপ্রাচ্যের ওই দুই শক্তিশালী ও ধনী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে।