বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ‘নাকাল’ কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ফাইল ছবি
দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক অবকাঠামো ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পরও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই নিজস্ব প্রধান সাব-স্টেশন অথবা কোনো কার্যকর জেনারেটর। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কুবির প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অনলাইন ক্লাস, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেটসহ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও দিনে সাত-আটবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আবাসিক হল ও বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সংকট দেখা দেয়, বন্ধ হয়ে যায় ওয়াইফাই। এতে অনলাইন ক্লাস ও গবেষণার কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, সামান্য বৃষ্টি বা বজ্রপাত হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সমস্যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষকদের দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষাকার্যক্রমে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। তাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসন করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, শিক্ষকরাও এ সমস্যায় ভুগছেন। ক্লাস চলাকালে বিদ্যুৎ চলে গেলে মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম অচল হয়ে যায়। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়।
বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন। এরপর শনিবার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ আসে কোটবাড়ি সাব-স্টেশন থেকে। সেখান থেকে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হয়। ফলে যেকোনো মেরামত বা দুর্যোগে একযোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, “হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা রাইস কুকার, হিটার, ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করেন, যা নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ টানে। এ অতিরিক্ত লোডের কারণে সার্কিট পুড়ে যায় এবং লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।”
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “আমরা সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি তুলেছি। লাইনটি বনজঙ্গল ঘেরা এলাকায় হওয়ায় সামান্য ঝড়বৃষ্টিতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের উদ্যোগ নিচ্ছি।”