ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির প্রায় ২ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ১

ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির প্রায় ২ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ১

ছবি : সংগৃহীত

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটিতে মানুষের জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। বৃষ্টির ফলে পুরো রাঙ্গামাটি জুড়ে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব মতে বন্যা ও পাহাড় ধ্বসে রাঙ্গামাটির প্রায় ২ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার জামুরাছড়ি গ্রামের পানছড়ি ছড়া থেকে ঢলের পানিতে ভেসে আসা এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করেছে গ্রামবাসী। 

স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে ২৯ মে থেকে ১ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বমোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৮৮ মিলিমিটার। এই ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির বেশ কিছু স্থানে ছোট ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে কাজ করছে প্রশাসন। 

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা ও সংশ্লিষ্ট কাব্বারী ললিক চাকমা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের জামুরাছড়ি গ্রামের পানছড়ি ছড়া থেকে ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়নি।

রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, পৌর এলাকার ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৩টি আশ্রয় কেন্দ্রের মোট ২৪৬ জন অবস্থান করছেন। অপর দিকে রাতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেশ কিছু জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। সড়ক বিভাগ দ্রুত মাটি সরিয়ে নিলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।

এছাড়া চলমান ভারী বর্ষণে সদর উপজেলা সাপছড়ি ইউনিয়নের বোধিপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে জলবদ্ধ সৃষ্টি হয়েছে এতে বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

অন্য দিকে গত রোববার বিকেলে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ও আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। এই টিমে ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা রয়েছেন। এছাড়াও সদরের জন্য চারটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। ১০ সদস্যের প্রতিটি টিমে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ বিভাগের ৩ ফায়ার সার্ভিস ২, স্বেচ্ছাসেবক টিম লিডার দুই ও দুইজন স্কাউট সদস্য রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জেলায় মোট ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে ২৪৬ জন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়েও আমাদের প্রস্তুতি আছে। উপজেলা নির্বাহী আফিসারদের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক তার কাজ করে যাচ্ছেন।