ভিনিসিউসকে ব্যঙ্গ করায় ৪ জনের জেল
ছবি: সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় স্পেনের মাদ্রিদ আদালত চার ব্যক্তিকে ১৪ থেকে ২২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরেই প্রথমবারের মতো স্পেনে ফুটবল মাঠে বর্ণবাদী আচরণকে ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে দণ্ডিত করা হলো।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কোপা দেল রে-তে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে একটি সেতুতে রিয়ালবিরোধী ব্যানার ও ভিনিসিয়ুসের নাম্বার ২০ লেখা জার্সি পরা কালো রঙের পুতুল ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল অভিযুক্তরা। তারা “মাদ্রিদ রিয়ালকে ঘৃণা করে” লেখা একটি ব্যানারও টানায়।
রায় অনুযায়ী, এক আসামিকে হেইট ক্রাইমে ১৫ মাস এবং হুমকির দায়ে অতিরিক্ত ৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি অনলাইনে ভিডিও ছড়িয়েছিলেন। বাকি তিনজনকে হেইট ক্রাইম ও হুমকি দুটির জন্যই ৭ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে চারজনই ভিনিসিয়ুস, রিয়াল মাদ্রিদ, লা লিগা ও স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ায়, তাদের কারাদণদের শাস্তি স্থগিত করা হয়েছে। প্রথম আসামিকে ১,০৮৪ ইউরো এবং বাকি তিনজনকে ৭২০ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভিনিসিয়ুস, তার বাড়ি ও কাজের স্থান থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা লা লিগা ও স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের এর ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে যেতে পারবে না।
শাস্তি স্থগিত রাখতে হলে চারজনকেই ‘সমতা ও বৈষম্যহীন আচরণ’ বিষয়ক একটি শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে। লা লিগা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে নানা বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় একাধিক অভিযোগ করেছে। ২০২৪ সালের ১০ জুন, তিন ভ্যালেন্সিয়া ভক্তকে ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালাগাল দেওয়ার দায়ে ৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এটি ছিল স্পেনে ফুটবল মাঠে বর্ণবাদী আচরণের জন্য প্রথম সাজা।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মায়োর্কার এক ভক্ত ভিনিসিয়ুস ও সাবেক ভিয়ারিয়াল খেলোয়াড় স্যামুয়েল চুকউয়েজেকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ায় এক বছরের কারাদণ্ড ও তিন বছরের স্টেডিয়াম নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়াও, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে একটি ম্যাচ চলাকালে ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী গালাগাল করার ঘটনায় গত মাসে পাঁচজনকে ১২ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। এটিই ছিল স্পেনে ফুটবল স্টেডিয়ামে বর্ণবাদকে ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে বিচার করার প্রথম রায়।