বরগুনায় ৮ মণ জাটকা জব্দ
ছবি : প্রতীকি
বরগুনার আমতলীতে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯৯৯-এ ফোন করে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় সাড়ে ৮ মণ নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ। কিন্তু অভিযানের পরও বাস চালক ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে, কুয়াকাটা-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তায়। ঢাকাগামী ‘ইমরান ট্রাভেলস’ নামক বাসটিতে যাত্রার সময় গোপন বাঙ্কারে ১৩টি ককসিটে করে প্রায় ৩৩০ কেজি (সাড়ে ৮ মণ) জাটকা ইলিশ বহন করা হচ্ছিল। মাছের তীব্র দুর্গন্ধে বিরক্ত যাত্রীরা প্রথমে প্রতিবাদ জানিয়ে পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি আটক করেন এবং মাছগুলো জব্দ করেন। জব্দ করা মাছ পরে আমতলী ও আশপাশের ৩২টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয় বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।
তবে, এই অভিযানে জড়িত থাকার পরও বাসচালক বা স্টাফদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জরিমানা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
যাত্রী রোমান বলেন, বাসে দুর্গন্ধে টিকেই থাকা যাচ্ছিল না। প্রশাসন এসে মাছ জব্দ করল ঠিকই, কিন্তু কোনো শাস্তি ছাড়াই বাস ছেড়ে দিল! এতে তো অন্য পরিবহনগুলোও একইভাবে মাছ পরিবহনে উৎসাহিত হবে।
একই অভিযোগ করেন যাত্রী শিউলী। তাঁর মতে, শাস্তি না হলে এই নিষিদ্ধ কাজ কোনোদিন বন্ধ হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, বাসে যাত্রী থাকায় মামলা করলে তাঁদের হয়রানি হতো। তাই মানবিক বিবেচনায় বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, বাসে নিষিদ্ধ মাছ বহন করায় চালক বা স্টাফদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।