মা-বাবার কবর জিয়ারত: পদ্ধতি ও ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামে জীবিত অবস্থায় মা-বাবার প্রতি সদাচার ফরজ; তেমনি তাদের মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া ও কবর জিয়ারত করা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (স.) কবর জিয়ারত করতেন এবং সাহাবিদের তা করতে উৎসাহ দিতেন।
১. কোরআন-হাদিসে কবর জিয়ারতের ফজিলত
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন এবং বলুন: হে আমার রব! তুমি তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ২৪)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি জিনিসের সওয়াব চলতে থাকে: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৬৩১)
কবরবাসীর শাস্তি লাঘব-
‘যখন কেউ মৃতের জন্য দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার শাস্তি লাঘব করে দেন।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২/৫০৯)
আখেরাতের স্মরণ-
নবীজি (স.) বলেছেন, ‘আমি আগে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করতাম, এখন তোমরা জিয়ারত করো; কারণ এটি মৃত্যুর স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সুনানে নাসায়ি: ১৫৬৪)
২. কবর জিয়ারতের সুন্নত পদ্ধতি
ক. জিয়ারতের সময়
যেকোনো দিন জিয়ারত করা যায়। তবে, শুক্রবার, শবে বরাত, ঈদের দিন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
খ. জিয়ারতের আমলসমূহ
কবরে প্রবেশের দোয়া- اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর।’ (ইবনে মাজাহ: ১৫৪৭)
গ. কোরআন তেলাওয়াত: সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস, এবং বিশেষ করে সুরা ইয়াসিন। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মৃতের কবরে সূরা ইয়াসিন পাঠ করে, আল্লাহ তার শাস্তি লাঘব করেন।’ (আবু দাউদ: ২/২৩৪, হাদিসটির সনদ দুর্বল)
ঘ. দোয়া করা: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ ‘হে আল্লাহ! তাদের ক্ষমা কর এবং দয়া কর।’
বিশেষ আমল-
সদকা করা: গরিবদের খাওয়ানো, পবিত্র কোরআন দান করা, পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা ইত্যাদি আমলগুলোর মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছানো।
কবরে ফুল বা গাছ লাগানো: রাসুল (স.) দুটি কাঁচা ডাল কবরে রেখেছিলেন এবং বলেছিলেন- ‘হয়তো এটি শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের শাস্তি লাঘব হবে।’ (সহিহ বুখারি: ২১৮, সহিহ মুসলিম: ২৯২)
৩. কবর জিয়ারতের সময় বর্জনীয় কাজ
কবরে সিজদা করা (স্পষ্ট শিরক)
কবরে মোমবাতি বা আগরবাতি জ্বালানো
কবরে কান্নাকাটি ও আহাজারি
কবরকে তাওয়াফ করা বা ওরস উদযাপন
কবরকে ‘ফয়জের’ কেন্দ্র মনে করা
সতর্কতা: ‘তোমরা কবরকে ঈদের মতো বানিও না।’ (আবু দাউদ: ৩২৩৬)
৪. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
মানসিক প্রশান্তি-
প্রিয়জনের কবর জিয়ারত মানসিক ভারসাম্য ও দুঃখ প্রশমনে সহায়তা করে (সূত্র: Journal of Psychology, 2020)
পারিবারিক বন্ধন-
কবর জিয়ারতের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও পারিবারিক দায়িত্বেরবোধ বাড়ে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা-
মৃতের অসিয়ত পূরণ ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করে
শেষ কথা, মা-বাবার কবর জিয়ারত ইসলামি শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি মৃতের জন্য রুহানি সহায়তা এবং জীবিতদের জন্য আখেরাতের প্রস্তুতি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মৃত মা-বাবা, আত্মীয় স্বজন ও সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।