বাজেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ১৮,১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
ফাইল ছবি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত এ বাজেট উপস্থাপন করেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবারের বাজেটে অটোমেশন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উদ্ভূত সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে এসটিইএম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথেমেটিক্স) শিক্ষাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া এবং গবেষণাকে সরাসরি বিশ্ব বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আমরা প্রচলিত গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে রিসার্চ টু মার্কেট (আর টু এম) এবং ইনোভেট টু মার্কেট (১২এম) কৌশল গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বা পণ্য সরাসরি বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করা হবে। এছাড়া মহাকাশ গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং ভূমিকম্প ও সিসমোগ্রাফি গবেষণায় নিজেদের অবস্থান তৈরিতে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরওে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পরমাণু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। দেশের একটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটসহ ২২টি পরমাণু চিকিৎসা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সাধারণ ও পরমাণু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে অনলাইন নেটওয়ার্কিংভিত্তিক একটি ‘সমন্বিত নিউক্লিয়ার মেডিসিন তথ্য ব্যবস্থা’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমুদ্র উপকূলীয় ও নদীবিধৌত দ্বীপ এলাকায় বিরল খনিজ অনুসন্ধানে ভূতাত্ত্বিক গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে প্রবাল পুনরুদ্ধার এবং উপকূলীয় অগভীর সমুদ্রে বায়ুপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে অফশোর উইন্ড এনার্জির ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।