পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম,দলিলসহ আলোচনা
ছবিঃ সংগৃহীত।
--- পূর্বে প্রকাশিতের পর ---
৭. শুকিয়ে যাওয়া মানুষের বীর্য কাপড় থেকে ঘষে পবিত্র করা যায়
যদি মানুষের বীর্য কাপড়ে লাগে এবং তা শুকিয়ে যায়, তাহলে সেটিকে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করলেই কাপড় পবিত্র হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে রঙ বা দাগ থেকে গেলেও ক্ষতি নেই, যেমন পানি দিয়ে ধুলেও কখনও রঙ থেকে যায়। তবে বীর্য ভেজা অবস্থায় থাকলে বা এটি মানুষ ব্যতীত অন্য প্রাণীর বীর্য তখন ধুতে হবে।
হাদীস প্রমাণ
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা) বলেন:
“আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাপড় থেকে বীর্য শুকিয়ে গেলে ঘষে ফেলতাম, আর **ভিজে থাকলে ধুয়ে ফেলতাম।” (দারাকুতনী, সহীহ হাদীস)
৮. নদফ (ঝাঁকুনি দেওয়া)
যদি তুলা বা তুলার মতো কিছুতে অল্প পরিমাণে নাপাকি লাগে, তাহলে ঝাঁকিয়ে দেওয়া বা ঝাঁটি দিয়ে পরিষ্কার করলেই তা পবিত্র হয়ে যায়, যতক্ষণ না নাপাকির চিহ্ন দূর হয়ে যায়।
৯. তুচ্ছ অংশ বাদ দেওয়া (التقوير)
এটি এমন পদ্ধতি, যেখানে নাপাক অংশটুকু কেটে বা আলাদা করে বাদ দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে পবিত্র করা হয়— ঘন বা জমাট বস্তুর মধ্যে লাগা নাপাকি, যেমন:
-
ঘি
-
আখের গুঁড়
-
অন্যান্য জমাট খাদ্য
হাদীস প্রমাণ
মাইমূনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন:
“একটি ইঁদুর ঘিয়ে পড়ে মারা যায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ–কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: ‘ওটিকে ও তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও, আর বাকি অংশ খাও।’” (সহীহ হাদীস – বুখারী, মুসলিম)
এই হুকুম সব মাজহাব একমত: যদি ঘি বা খাদ্যটি জমাট বা ঘন হয়, তাহলে শুধু নাপাকি ও তার চারপাশ বাদ দিলেই বাকি অংশ পবিত্র।
কিন্তু যদি তরল জিনিসে নাপাকি পড়ে যেমন: তেল, গলানো ঘি তাহলে জমহুর উলামাদের মতে তা অপবিত্র হয়ে যায়, পুরোটা ফেলে দিতে হবে।
ঘন/জমাট বস্তুতে নাপাকি লাগলে এর হুকুম
যদি বস্তুটি এমন হয়, যেটি ভেতরে ভেতরে নাপাকি শুষে নেয়নি, তাহলে তা পবিত্র করা সম্ভব।
যেমন:
-
পাত্র,
-
পাথর,
-
ধাতব জিনিস
ইত্যাদি → এগুলিকে ধুয়ে পবিত্র করা যায়।
কিন্তু যদি সেটি এমন কিছু হয়, যা নাপাকি ভেতরে ভেতরে শুষে নিয়েছে, যেমন:
-
কাঁচা মাংস
-
গম
-
কাঁচা মুরগি বা পশুর মাথা, পাকস্থলী
যদি সেগুলো আগেই ধুয়ে নেওয়া হয়, তাহলে রান্না করা যাবে। কিন্তু নাপাকি অবস্থায় সেদ্ধ বা রান্না হয়ে গেলে, তখন আর কোনোভাবেই পবিত্র করা যাবে না।
যেমন:
-
যদি কাঁচা মাংস বা গরুর পাকস্থলী ধোয়ার আগে রান্না হয়ে যায় → আর পবিত্র হবে না
-
মুরগি যদি পেট না কেটে পালক ছাড়ানোর জন্য সেদ্ধ করা হয় → তা পবিত্র হবে না
১০. বিভাজন ও বণ্টন
যখন কোনো বস্তুর একাংশে নাপাকি লাগে, তখন সেই অংশ আলাদা করে ফেললে বাকিটা পবিত্র হয়ে যায়। যেমন—
-
গম বা যবের উপর যদি গাধা মূত্রত্যাগ করে,
-
তারপর তার কিছু অংশ ধুয়ে ফেলা হয় বা বিক্রি, হেবা বা খাওয়া হয়,
-
তাহলে বাকি অংশও পবিত্র হয়ে যায়।
এভাবে নাপাক জিনিস হেবা দেওয়া হয় এমন ব্যক্তিকে, যে ব্যক্তি সেটাকে নাপাক মনে করে না, তাহলেও তা বৈধ।
তবে মনে রাখতে হবে— বিভাজন, কেটে ফেলা, হেবা দেওয়া ইত্যাদি মূলত পবিত্র করার উপায় নয়,
বরং ইজতিহাদগত সুবিধার জন্য শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।
১১. রূপান্তর (الاستحالة)
নাপাক বস্তু যদি রূপ পরিবর্তন করে অন্য কিছুতে পরিণত হয়, তাহলে তা পবিত্র হয়ে যায়।
উদাহরণ:
-
হরিণের রক্ত থেকে যদি মোশকের ঘ্রাণ বের হয় → তা পবিত্র
-
মদ আপনা-আপনি বা প্রাকৃতিকভাবে ভিনেগারে পরিণত হলে → তা পবিত্র
-
মৃত জানোয়ার লবণে পরিণত হলে
-
কুকুর লবণের খনিতে পড়ে থেকে গলে গেলে
-
গোবর পুড়ে ছাই হয়ে গেলে
-
নাপাকি জমিতে পুঁতে রাখলে এবং সময়ের সাথে চিহ্ন চলে গেলে
ইমাম মুহাম্মদের মতে, যখন নাপাকির গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য চলে যায়, তখন তা আর নাপাক থাকে না।
সব মাজহাব একমত:
-
মদ যদি ভিনেগারে পরিণত হয়, তাহলে তা পবিত্র
-
মদের পাত্রও পবিত্র, যদি ভিনেগারে পরিণত হয়
-
এমনকি তা ছায়া থেকে রোদে নেওয়ার মাধ্যমেও হয়ে থাকুক না কেন