শিশুর নিরাপত্তা ও কল্যাণে আকিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
ছবি: সংগৃহীত
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য নেয়ামত। নবজাতক একটি পরিবারে খুশির বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি সে মা-বাবার জন্য একটি পবিত্র আমানতও। ইসলাম শিশুর শারীরিক ও আত্মিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে—যার মধ্যে অন্যতম হলো আকিকা।
আকিকা কী ও কেন?
আকিকা হলো নবজাতকের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পশু জবাই করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং শিশুকে আত্মিক সুরক্ষায় আবৃত করা। প্রিয়নবী (স.) এ বিষয়ে বলেছেন- ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ পশু জবাই করো) এবং তার মাথা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো।’ (সহিহ বুখারি: ৫৪৭২)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করতে হয়, মাথা মুণ্ডাতে হয় এবং নাম রাখতে হয়।’ (তিরমিজি: ১৫২২)
আকিকার আত্মিক উপকারিতা
আকিকা এমন এক বিধান, যার গভীরে রয়েছে আত্মিক সুরক্ষা ও কল্যাণের বার্তা। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘আকিকা সন্তানের জন্য শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার মাধ্যম। অনেক সময় মা-বাবার অবহেলার কারণে শিশু এই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’ (জাদুল মাআদ: ২/৩২৫)
আকিকা কখন করতে হবে?
সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা সুন্নত। তবে সম্ভব না হলে পরবর্তীতে সুযোগ হলে তা আদায় করা যায়। ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি খাসি আকিকা করা সুন্নত। (তিরমিজি: ১৫১৬)
এক বছর বয়স পূর্ণ করা পশুই আকিকার জন্য শুদ্ধ। এর চেয়ে কম বয়সের হলে তা যথাযথ হবে না।
অভাবী হলে কী করণীয়
আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আকিকা না করতে পারলে গুনাহ হবে না। বরং ইচ্ছা ও নিয়তের মূল্য আছে। ফতোয়া বোর্ড ‘আল-লাজনাতুদ্দায়িমাহ’ জানায়- ‘যদি আপনি গরিব হন, তাহলে আকিকা না করায় কোনো সমস্যা নেই। তবে যখন সামর্থ্য হবে, তখন আদায় করে নেওয়াই উত্তম।’
আকিকার গোশত বিতরণ ও খাওয়ার বিধান
আকিকার গোশত কাঁচা বা রান্না করা—যেকোনোভাবে বিতরণ করা যায়। ধনী-গরিব, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি নিজেরাও তা খেতে পারেন। এতে কোনো বাধা নেই। (ফতোয়ায়ে শামি: ৬/৩৩৬)
আকিকা এক অনন্য ইসলামী বিধান, যা নবজাতককে শয়তানি প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং কল্যাণের পথে এগিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিত সন্তান জন্মের পরপরই এ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত পালনে সচেষ্ট হওয়া। এতে শুধু শিশুর নিরাপত্তাই নয়, পরিবারের ওপরও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।