কোরআনের ফজিলতপূর্ণ সুরা সমূহ
কোরআনের ফজিলতপূর্ণ সুরা সমূহ।। ছবিঃ সংগৃহিত।
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন। এটি মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও জীবনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশ। কোরআনের প্রতিটি সুরা নিজস্ব তাৎপর্য ও শিক্ষা বহন করে। তবে কিছু সুরা বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদার কারণে আলাদা গুরুত্ব লাভ করেছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে এসব সুরা তেলাওয়াতের বিশেষ পুরস্কার ও উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। মুমিনের জীবনকে আলোকিত করতে এসব সুরার গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এমন চারটি ফজিলতময় সুরার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো।
সুরা ফাতেহা : ফাতেহা কোরআনের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সুরা। এ সুরাকে কোরআনের মা বলা হয়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, সুরা ফাতেহা এবং বাকারার শেষ তিন আয়াত হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ নুর, যা ইতিপূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, একবার এক সফরে আমাদের এক ভাই জনৈক গোত্রপতিকে শুধু সুরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন এবং তিনি সুস্থ হন। (সহিহ বুখারি)
সুরা বাকারা : বাকারা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুরা। এ সুরায় রয়েছে আয়তুল কুরসি এবং এ সুরার শেষ দুই আয়াতও ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করে, তাহলে সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। (সহিহ বুখারি)। সুরা বাকারার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে আরও বর্ণনা রয়েছে। এক হাদিসে সুরা বাকারা তেলাওয়াতের তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন এ সুরা ছায়াদানকারী হবে।
সুরা ওয়াকিয়া : এই সুরা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবে, তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। (বায়হাকি)। আলেমরা বলে থাকেন, এ সুরার বিশেষ দিক এটাই যে, ধনাঢ্যতা লাভ করতে চাইলে এ সুরার চেয়ে বেশি কার্যকর কোনো কিছু নেই এবং এর সুফল কোরআন নাজিলের পর থেকে সবসময় পরীক্ষিত।
সুরা হাশর : সুরা হাশরকে বলা হয় জান্নাত লাভের মাধ্যম। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আউজু বিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশশাইতনির রাজিম’সহ সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ সে ব্যক্তির জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। যারা ওই ব্যক্তির জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকবে। আর এ সময়ের মধ্যে যদি লোকটি মারা যায়, তাহলে সে শহীদী মৃত্যু লাভ করবে। আর যে এটি সন্ধ্যার সময় পড়বে অতঃপর ওই রাতে মারা যায়, তবে তারও একই মর্যাদা রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি)
কোরআনের প্রতিটি হরফ তেলাওয়াতের বিনিময়ে ১০টি করে নেকি দেওয়া হয়। আর এসব ফজিলতপূর্ণ সুরা তেলাওয়াতের মাধ্যমে হরফপ্রতি ১০টি করে নেকি লাভের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি ফজিলতও অর্জন হয়, যা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য অনেক কল্যাণকর। মহান আল্লাহ ফজিলতময় এ সুরাগুলো প্রতিদিন তেলওয়াতের মাধ্যমে আমাদের সফলতা অর্জন করার তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক