তাওবা ছাড়াও যেসব ভালো কাজে গুনাহ মাফ হয়

তাওবা ছাড়াও যেসব ভালো কাজে গুনাহ মাফ হয়

ছবি: সংগৃহীত

 

মানুষ প্রতিনিয়ত গুনাহ করে—ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় কিংবা শয়তানের প্ররোচনায়। এর মধ্যে কিছু গুনাহ রয়েছে, যা তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। আবার কিছু গুনাহ এমনও রয়েছে, যা তাওবা-ইস্তিগফার ছাড়াও আল্লাহ তাআলা বিশেষ নেক আমলের বিনিময়ে মাফ করে দেন। নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে সেরকম ২৩টি গুনাহ মোচনের আমল তুলে ধরা হলো।

১. তাওবা

তাওবা সব গুনাহ মুছে দেয়। (সুরা জুমার: ৫৩, ফুরকান: ৭০, তাহরিম: ৮, হুদ: ৩; ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)

২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

প্রতিদিনের নামাজে ছোট গুনাহগুলো মাফ হয়। (মুসলিম: ৬৬৭, ২৩৩; বুখারি: ৫২৮)

৩. জুমার নামাজ

এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ হয়। (মুসলিম: ৮৫৭)

৪. জামাতের জন্য কদম ফেলা

মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি কদমে গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি: ৬৪৭)

৫. অজু

অজু করার সময় গুনাহ ঝরে যায়। (মুসলিম: ২৪৪; তিরমিজি: ৩২৩৩)

৬. আমিন বলা 

সুরা ফাতিহা শেষে আমিন ফেরেশতার সঙ্গে মিললে গুনাহ মাফ হয়। (আহমদ: ৭১৮৭)

৭. ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ বলা

রুকু থেকে উঠে বলা গেলে গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি: ৭৯৬)

৮. রমজানের রোজা

সওয়াবের আশায় রোজা রাখলে পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা। (বুখারি: ৩৮)

৯. তারাবি বা কিয়ামুল লাইল

রমজানে রাতের নামাজ গুনাহ মোচন করে। (বুখারি: ৩৭, ১৯০১)

১০. আরাফার রোজা

এক বছর পূর্ব ও এক বছর পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৭৪৯; মুসলিম: ১১৬২)

১১. আশুরার রোজা

এক বছরের গুনাহ মোচন হয়। (মুসলিম: ১১৬২)

১২. হজ

সঠিকভাবে হজ করলে সব গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি: ১৫২১)

১৩. কাবা শরিফে তাওয়াফ

প্রতি কদমে গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৯৫৯)

১৪. হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ

হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ গুনাহ দূর করে। (তিরমিজি: ৮৭৭, ৯৫৯)

১৫. আরাফার দিন চোখ, কান ও মুখ নিয়ন্ত্রণ

এতে আল্লাহর ক্ষমা লাভ হয়। (আহমদ: ৩০৪১; বায়হাকি: ৩৭৭৭)

১৬. ওমরা

দুই ওমরার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ। (বুখারি: ১৭৭৩; মুসলিম: ১৩৪৯)

১৭. বিপদে ধৈর্য ধরা

ধৈর্য ধারণকারী ব্যক্তি গুনাহমুক্ত হয়। (আহমদ: ১৬৫৬০; মুসলিম: ২৫৭২)

১৮. মুসাফাহা

পরস্পর কুশল বিনিময়ে গুনাহ মাফ। (তিরমিজি: ২৭২৭; আবু দাউদ: ৫২১২)

১৯. খাবারের পর শুকরিয়া

খাবারের পর শুকরিয়া করে দোয়া পড়লে গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৩৪৫৮)

২০. সুবহানাল্লাহ ১০০ বার

এক হাজার সওয়াব ও এক হাজার গুনাহ মাফ। (মুসলিম: ২৬৯৮)

২১. দরুদ শরিফ পাঠ

প্রতি দরুদে ১০টি গুনাহ মাফ হয়। (নাসায়ি: ১২৯৭)

২২. ফজর ও মাগরিবের পর বিশেষ দোয়া

ফজর ও মাগরিবের পর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদির’ দোয়াটি ১০ বার পড়লে গুনাহ মাফ হয়। (আহমদ: ২৩৫১৮)

২৩. বাজারে গিয়ে বিশেষ দোয়া পাঠ

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমিতু, ওয়াহুয়া হাইয়্যু লা ইয়ামূতু, বিয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইং কাদির’ দোয়া পাঠে ১০ লাখ গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৩৪২৮)

মানুষ ভুল করে, কিন্তু মহান আল্লাহ গুনাহ মাফকারী। উল্লেখিত আমলগুলো মুমিনের জন্য অপার সুযোগ। আল্লাহ যেন আমাদের এসব নেক আমল করার তাওফিক দেন এবং ইচ্ছাকৃত-অনিচাকৃত সব গুনাহ মাফ করে দেন। আমিন।