যশোরে জুলাই গণঅভ‚্যত্থান দিবসে প্রশাসনের উদ্যোগে বিজয় মিছিল, স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা
ছবি: প্রতিনিধি
যশোর প্রতিনিধি: ৫ আগস্ট বুধবার নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বছর পূর্ণ হলো। দিনটি স্মরণে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, বিজয় র্যালি, আলোচনা ও কনসার্টের মধ্য দিয়ে যশোরে জুলাই গণঅভ‚্যত্থান দিবস পালন করলো জেলা প্রশাসন।
৫ আগস্ট সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন গরিবশাহ রোডের বকুল তলায় নির্মিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন জেলা প্রশাসক মো: আজাহারুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার রওনক জাহান। এসময় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্মিলিত বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দড়াটানা, মুজিব সড়ক ঘুরে ঈদগাহ ময়দান সড়ক হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক।

এসময় তিনি বলেন, ২০২৪ এর ৩৬ জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সুচনা। হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে এদিন স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম। কিন্তু বৈষম্যহীন মানবিক ও ইনসাফ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা ৭১’র সুফল ২০২৪’র আন্দোলনের ছাত্র-জনতার যে বিজয় তার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌছে দিতে চায়।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের বিচার আমরা চায়। শহীদের প্রত্যেকটা রক্তের আমরা হিসাব নিতে চায়। প্রত্যেকটা রক্তের আমরা মূল্য দিতে চায়। এটা আবেগের বিষয় নয়। এটা বাস্তবতায় রুপ দিতে হবে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান। তিনি বলেন, বর্তমান যশোরের পুলিশ যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয়ভাবে অপরাধ দমনে কাজ করছে। স্বৈরাচারের শাসনামলে পুলিশ তার নিয়মিত কার্যক্রম বাদ রেখে একটি রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছিল। আমরা কারো অন্যায় কর্মকান্ডের হাতিয়ার হতে চায় না। অপরাধ দমনে পুলিশকে সহায়তা করার প্রয়োজনে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নেতা আবুল হাশিম রেজা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সহকারি প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার, লেখক গবেষক এক্টিভিস্ট বেনজীন খান, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, এনসিপির কেন্দ্রিয় নেতা এফ এম নাফিস হাসান, জেলা সংগঠক মো: নুরুজ্জামান, শহীদ আব্দুল্লাহর গর্বিত পিতা আব্দুল জব্বার ও শহীদ ইমতিয়াজ জাবিরের পিতা নওশের আলী, জুলাই যোদ্ধা রাশেদ খান, মো: আহাদ হোসাইন, মো: মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিজয় মিছিলে অংশ নিলেও আলোচনা সভায় কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকেই যশোর শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে শহরের প্রধান সড়কে বিজয় মিছিল বের করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিপরিষদ পদত্যাগ করেন। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা।